সয়াবিন উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাস’ সনদ পেল মেঘনা গ্রুপ
- দক্ষিণ এশিয়ার ২০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এমজিআই
- এমজিআই পণ্য প্যাকেজিংয়ে থাকবে সাস লেবেল

ছবি কোলাজ আগামীর সময়
‘সাসটেইনেবল ইউএস সয় (সাস)’ সনদ পেল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। প্রথমবারের মতো দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের এ অর্জন। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় যুক্ত হলো এমজিআই।
সাস সনদ পাওয়া মানে হলো পরিবেশবান্ধব, দায়িত্বশীল ও ট্রেসযোগ্য উপায়ে উৎপাদিত হয়েছে সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর সয়াবিন পণ্য। আর এর মাধ্যমে সয়াবিন উৎপাদনে টেকসই কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কিনা— তা যাচাই করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানিতে শীর্ষস্থানীয় এ প্রতিষ্ঠানের সাস সনদ অর্জনকে টেকসই কৃষিভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন থেকে এমজিআইয়ের পণ্য প্যাকেজিংয়ে ব্যবহার করা হবে সাস লেবেল।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ দৈনিক ক্রাশিং করছে ৭ হাজার ৫০০ টন সয়াবিন। এ সনদ দেশের ভোজ্য তেল, প্রাণিখাদ্য ও খাদ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে ট্রেসযোগ্য ও টেকসই উৎস থেকে সংগৃহীত কাঁচামালের চাহিদা বাড়তে থাকায় এ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
বিষয়টি বর্ণনা করেছেন মেঘনা গ্রুপের পরিচালক তানজিমা মোস্তফা। তার ভাষ্য, এ উদ্যোগ তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ, যা টেকসই ভবিষ্যতের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে। এর ফলে গ্রাহকরা নিশ্চিত হতে পারবেন যে পণ্যগুলো এসেছে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল কৃষি পদ্ধতিতে উৎপাদিত কাঁচামাল থেকে।
লেবেলটি ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল-ইউএস সয় সাসটেনাবিলিটি অ্যাসুরেন্স প্রোটোকলের আওতায় পরিচালিত। এখানে মাটি সংরক্ষণ, পানি ব্যবস্থাপনা, বায়ুর মান ও ভূমি ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো করা হয় মূল্যায়ন।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের থেকে ১১ লাখ ৩০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে বাংলাদেশ। তার অর্ধেকের বেশি আমদানি করেছে এমজিএ।
উল্লেখ্য, গত বছর এমজিএ ও দেশের অন্য অংশীদাররা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি বাড়িয়ে ১২৫ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে স্বাক্ষর করেছিলেন সমঝোতা স্মারক।















