চীনে জুতা কারখানায় আগুন, নিহত ২৮

সংগৃহীত ছবি
চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশের একটি জুতা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন লাগার পর ছাদে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান চালান দমকলকর্মীরা। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, স্থানীয় সময় গতকাল দুপুরের দিকে জিনজিয়াং শহরের বহুতল কারখানাটিতে আগুন লাগে। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক ভবনের ছাদে আটকা পড়েন।
এক নির্দেশনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই অগ্নিকাণ্ডে ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহত’ হয়েছে, যা প্রাণহানির মাত্রা গুরুতর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
সিসিটিভি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বহুতল কারখানাটি আগুনে পুড়ছে এবং ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ধোঁয়ার মধ্যে কয়েকজনকে ভবনের ছাদে আটকা অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয় দমকল কর্মকর্তারা জানালেন, উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে আগুনের মূল শিখা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে ১৮৩ জন দমকল ও উদ্ধারকর্মী এবং ৩৫টি যান মোতায়েন করা হয়েছে।
চীনে বন্যায় মৃত্যু ৩৯: চীনে সম্প্রতি ঝড় মেসাকের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৯ জনের। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাননিং শহরের ডেপুটি মেয়র ডিং উই। তিনি জানিয়েছেন, শুধু নাননিং শহরের বাঁধ ভাঙার ঘটনাতেই ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গুয়াংশি অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে জলাধারগুলো উপচে পড়ে সৃষ্টি হয় এই ভয়াবহ পরিস্থিতির।
বন্যার কারণে এলাকাগুলো থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে। পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ড্রোন এবং নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গুয়াংশির দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক দিন ধরে ভারী বর্ষণ হয়েছে। কিছু এলাকায় ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় ৯০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যার্তদের উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে আট হাজারেরও বেশি কর্মী। তীব্র স্রোত এবং ভাসমান ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ডিং উই আরও জানিয়েছেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে আগামী দুদিন কিছু এলাকায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
নাননিংয়ের আওতাধীন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হেংঝু শহরে কাদা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং জীবাণুনাশক ছিটানোর জন্য কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ৬০ হাজারেরও বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।




