আবারও নেপালে বিপর্যয়
হিমলুং হিমালে তুষারধস, নিখোঁজ ১৪ নেপালি
- বিদেশি পর্বতারোহীদের আসার আগেই শিবিরে বিপর্যয়, খারাপ আবহাওয়ায় থমকে উদ্ধারকাজ

আবারও নেপালে বিপর্যয়। নেপালের হিমলুং হিমালে রবিবার সকালে তুষারধসে নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। নেপালের কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা ১৪ । তাঁরা সকলেই নেপালের নাগরিক - শেরপা, রান্নার কর্মী এবং পর্বতারোহণের সহায়ক কর্মী। ঘটনায় কোনও ভারতীয় বা অন্য কোনও বিদেশি পর্বতারোহী নিখোঁজ হননি বলেও জানা যায় । কারণ বিদেশি পর্বতারোহীরা তখনও হিমলুংয়ে পৌঁছননি। তাঁদের পাঁচ- ছয় দিন পরে সেখানে আসার কথা ছিল।
ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের মানাং জেলার নার- ফু এলাকায়, তিব্বত সীমান্তের কাছে ৭,১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমালে। পর্বতারোহণের প্রস্তুতি চলছিল সেখানে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিদেশি পর্যটক বা পর্বতারোহী ছিলেন না। বিদেশি দল আসার আগে নেপালি কর্মীদের একটি দল পাহাড়ে গিয়ে শিবির তৈরি, পথ পরিষ্কার এবং দড়ি বসানোর কাজ করছিল। তুষার ধসের সময় সেই দলের সদস্যরাই সেখানে ছিলেন।
হিমালয়ান হলিডেজ ট্রেকিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিভূতি চন্দ ঠাকুর জানিয়েছেন যে, রবিবার প্রথমে ২২ জনের দলের আটজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। পরে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১৪ হয়। সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে হিমলুংয়ে থাকা এক শেরপা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানোর অনুরোধ করেন। পরে আবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজদের মধ্যে অন্য একটি সংস্থার দু’জন কর্মীও রয়েছেন। নেপালের পর্যটন দফতর জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে রান্নার কর্মী, শেরপা গাইড এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মী রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাঠমান্ডু ও পোখরায় হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অভিজ্ঞ কয়েকজন শেরপাও উদ্ধারের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু প্রবল তুষারপাত ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে এখনও হিমলুংয়ের দিকে হেলিকপ্টার পাঠানো সম্ভব হয়নি।
গত কয়েকদিন ধরে হিমলুং এলাকায় ভারী তুষারপাত হচ্ছিল। নেপালের আরও কয়েকটি পার্বত্য এলাকাতেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে পর্বতারোহণ ও ট্রেকিং বন্ধ বা স্থগিত হয়েছে। মানাসলু ও ধৌলাগিরি এলাকাতেও তুষারপাতের কারণে অভিযান ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টিতে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এখন আবহাওয়া একটু পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় উদ্ধারকারী দল। হিমলুংয়ের দুর্গম পাহাড়ে বরফের নীচে আটকে থাকা ১৪ জনকে যত দ্রুত সম্ভব খুঁজে বের করাই এখন নেপাল সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



