ফের হিমবাহ ধসের সতর্কতা চীনের
- বন্যার পানি নেমে গেছে, তবুও বিপদ কাটেনি

নতুন করে হিমবাহ ধসে পড়লে আবারও বিপুল পরিমাণ পানি ও পলি নেমে এসে নিচু এলাকার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যার পানি অনেকটাই নেমে গিয়ে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ছোচেন খোলা নদীর ওপর ধসের ফলে তৈরি হওয়া বিশাল গর্তের আশপাশের হিমবাহ ও বরফের স্তর এখনও ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়। নতুন করে হিমবাহ ধসে পড়লে আবারও বিপুল পরিমাণ পানি ও পলি নেমে এসে নিচু এলাকার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি নিউজ চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে এই সতর্কতার কথা জানায়। সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি টানা দ্বিতীয় দিন যে চীনা কর্তৃপক্ষ ছোচেন খোলা এলাকার হিমবাহ ধসের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করল। এর আগেও পাহাড়ের ধসস্থানের কাছে জমে থাকা পানি উপচে পড়ার পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিল সিসিটিভি।
মঙ্গলবার সকালে তোলা ড্রোনের ছবি বিশ্লেষণ করে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, নেপালের ছোচেন খোলা নদীর ধসের ফলে তৈরি বিশাল গর্তে জমে থাকা অধিকাংশ পানি সরে গেছে এবং নিচের দিকে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু পানি সরে গেলেও ধসের ফলে তৈরি বিশাল গর্তের চারপাশের হিমবাহ বা বিশাল বরফখণ্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এখনও রয়েছে। এমন ঘটনা ঘটলে ফের বড় আকারে পানি, বরফ ও পলিমাটি নিচের দিকে নেমে গিয়ে নতুন করে বন্যা বা ধসের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সে কারণে গোটা এলাকাকে এখনও ঝুঁকিমুক্ত মনে করছে না চীনা কর্তৃপক্ষ।
এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয় লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢালে। গত ২৭ আগস্ট সেখানে বরফ ও পাথরসহ বিশাল ধস নামে। পরে ল্হেন্দে খোলা নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। সেই বন্যায় ৯০০ -র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে নেপালি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রাস্তা, সেতু, ভবন সহ বিস্তীর্ণ এলাকার অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে তিব্বতের কেরুং কাউন্টিতে কাদামাটি ও পলিসহ তৈরি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির সামগ্রিক
ঝুঁকিও পর্যালোচনা করছে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণে কেরুং সাংপো নদী অববাহিকায় আগে শনাক্ত করা ১৪ টি হিমবাহ হ্রদের পানির স্তরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে ওই হ্রদগুলো আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরো বিপর্যয়পূর্ণ এলাকা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। ছোচেন খোলা নদীর ধসস্থানের আশপাশের হিমবাহ এখনও ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ জমে থাকা পানি সরে গিয়ে তাৎক্ষণিক বন্যার চাপ কমলেও, নতুন করে হিমবাহ ধস বা ভূমিধস হলে ফের নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন অব্যাহত রেখেছে চীন।







