জাতিসংঘের প্রতিবেদন
ভোটের আগে বিমান হামলা বাড়ায় মিয়ানমার, যুদ্ধাপরাধে জড়িয়েছে সব পক্ষই

সংগৃহীত ছবি
ভোটের ব্যালট বাক্স সাজানোর আগেই যেন আকাশে সাজানো হয়েছিল যুদ্ধের মঞ্চ। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যখন দেশটিকে নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনই বেসামরিক মানুষের ওপর আকাশপথে হামলা আরও তীব্র করে তারা। গত বছরের শেষ থেকে চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনের আগে সহিংসতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দেশটির গৃহযুদ্ধে জড়িত কোনো পক্ষই যেন রক্তপাতের দায় এড়াতে পারেনি। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছেন, গত এক বছরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ আরও বাড়িয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে নির্যাতন ও যৌন সহিংসতাও।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা (আইআইএমএম) জানিয়েছে, গত এক বছরে দেশটিতে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘনত্ব ও তীব্রতা—দুটিই বেড়েছে।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি ২০১৮ সালে গঠিত হয়। ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধের তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত করাই এর লক্ষ্য। এর আওতায় ২০১৭ সালে মূলত মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সামরিক অভিযানের ঘটনাও রয়েছে। ওই সময় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা সামরিক দমন-পীড়ন ও অন্যান্য নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু কোনোটিই মনে করেনি। নির্বাচনে জয় পায় সামরিক বাহিনী-সমর্থিত একটি দল। এর মধ্য দিয়ে তৎকালীন জান্তা নেতা মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ তৈরি করেন।
ক্ষমতায় যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টায় এ মাসেই থাইল্যান্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর করেন মিন অং হ্লাইং।
তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে উঠে আসা চিত্রে সেই নির্বাচনের পেছনের মিয়ানমারকে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে—ভোটের আগে আকাশ থেকে হামলা, মাটিতে সশস্ত্র সংঘাত এবং বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগে ক্রমেই আরও রক্তাক্ত হয়ে ওঠা একটি দেশ।
প্রতিবেদন নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কাছে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।





