আসিয়ানকে সরাসরি ‘না’ মিয়ানমারের, সু চির মুক্তিতেও অনড়

মিন অং হ্লাইং- রয়টার্স
আসিয়ানের দরজায় যখন মিয়ানমারকে আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, তখন উল্টো সেই দরজাই বন্ধ করে দিচ্ছে দেশটির সামরিক-সমর্থিত সরকার। প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের সঙ্গে আসিয়ানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই আঞ্চলিক জোটটির বিশেষ দূতকে আর প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে নেপিডো। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘদিনের বন্দি অং সান সু চির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। ফলে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আসিয়ানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর চার বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার ও ১১ সদস্যের আসিয়ানের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০২১ সালের শুরুর দিকে সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর দেশটিতে শুরু হয় ব্যাপক গৃহযুদ্ধ। এতে আনুমানিক এক লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংকট সমাধানে আসিয়ান পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বকে জোটটির শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
তবে বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবার সেই অবস্থান বদলের চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় কোনো বিরোধী শক্তির অংশগ্রহণ ছাড়াই জয় পায় সামরিক-সমর্থিত একটি দল। এর পর মিয়ানমারের তৎকালীন জান্তা নেতা মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
সপ্তাহখানেক আগে ব্যাংককে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও। বৈঠকের পর তিনি জানান, আসিয়ানের শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা চায় থাইল্যান্ড। আঞ্চলিক উদ্বেগ থেকে সরে যাচ্ছে না দেশটি।
কিন্তু মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত পার্লামেন্ট গত মাসেই আসিয়ানের শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিকল্পনাটিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ আখ্যা দিয়ে আসিয়ানকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
সু চির মুক্তিতেও অনড়
এর মধ্যেই শুক্রবার অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির এক কর্মকর্তার সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করে বিবৃতি দেয় আসিয়ান। একই সঙ্গে বর্তমান আসিয়ান বিশেষ দূত, ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। জোটটি সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বানও জানায়।
৮১ বছর বয়সী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চি বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগে ১৮ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহের রেডক্রস কর্মকর্তার সাক্ষাতের আগে কোনো বিদেশি নেতা বা দূত প্রকাশ্যে তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি।
আসিয়ানের দাবির জবাবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মানবিক বিবেচনায় সু চির সাজা কমানো হলেও তার ‘পূর্ণ ও নিঃশর্ত মুক্তি’ কেবল আইন অনুযায়ীই দেওয়া হবে।
অন্যদিকে আসিয়ান বিশেষ দূত নিয়েও মিয়ানমারের অবস্থান স্পষ্ট। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন বিশেষ দূত নিয়োগ এবং তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখার আর প্রয়োজন নেই।




