শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুলাভাই গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আবু হানিফ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. আবু হানিফ (৩৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই তরুণী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গ্রেপ্তার আবু হানিফ সম্পর্কে ওই তরুণীর চাচাতো বোনের স্বামী। তার দুইটি সন্তান রয়েছে।
গত বুধবার রাতে আবু হানিফকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।
গ্রেপ্তার আবু হানিফ উপজেলার মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবু হানিফ তার স্ত্রীর চাচাতো বোনকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ৯ মাস আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হানিফ তাকে সিলেটে নিয়ে যান। সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়। তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলেও হানিফ রাজি হননি। একপর্যায়ে তরুণী জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি হানিফকে জানানোর পর তরুণীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত স্বর্ণ ও রুপার অলংকার জোর করে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
তরুণীর অভিযোগ, গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য হানিফ একাধিকবার তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা হয়।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে হানিফের গ্রামের বাড়িতে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য চাপ দেন ওই তরুণী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হানিফ বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তি করে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তরুণীর দাবি, হানিফ তার অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তাকে ও তার গর্ভের সন্তানকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ওই তরুণী মোহনগঞ্জ থানায় হানিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। বুধবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলা রেকর্ডভুক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘তরুণীর করা ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হানিফকে আজ বিকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



