স্কুলে গুলির রেশ না কাটতেই থাইল্যান্ডে সরকারি দপ্তরে বন্দুক হামলা
রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স
স্কুলে কিশোরের বন্দুক হামলার ক্ষত শুকানোর আগেই আবার গুলির শব্দ থাইল্যান্ডে। রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্থানীয় সরকারি দপ্তরে সোমবার গুলি চালিয়েছেন এক সাবেক আইনপ্রণেতা। তার গুলিতে আহত হয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ প্রাদেশিক কর্মকর্তা ও তার গাড়িচালক। কয়েক দিন আগেই একই প্রদেশে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের বন্দুক হামলায় ৯ জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছিল। সেই উত্তাপের মধ্যেই নতুন এই হামলা যেন আবারও সামনে আনল থাইল্যান্ডের বন্দুক সংস্কৃতির অন্ধকার দিকটি।
ননথাবুরি প্রদেশের পুলিশ কমান্ডার মেজর জেনারেল দেজরাপি কংদি জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী একজন সাবেক আইনপ্রণেতা। তিনি এক জ্যেষ্ঠ প্রাদেশিক কর্মকর্তা ও তার গাড়িচালককে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
রয়টার্সকে দেজরাপি বললেন, ‘দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
হামলার পর বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে শুক্রবার একই প্রদেশে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রথমে নিজের বাড়িতে এবং পরে দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে গুলি চালায়। ওই ঘটনায় হামলাকারীসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন ২০ জনের বেশি। প্রায় চার বছরের মধ্যে এটিই ছিল থাইল্যান্ডের সবচেয়ে প্রাণঘাতী গণগুলির ঘটনা।
দেশটির স্কুলগুলোতে সোমবার শিক্ষার্থীরা আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে। তবে এবার অনেক স্কুলের প্রবেশপথে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা, ধাতব শনাক্তকারী যন্ত্র ও অস্ত্র তল্লাশি।
ব্যাংককের দেবসিরিন স্কুলে শিক্ষার্থীরা ফিরলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। শুক্রবারের হামলার শিকার স্কুলটির সঙ্গে এটি একই প্রতিষ্ঠানের একটি শাখা। স্কুলের পরিচালক উইথান প্রমসিনতুসাক জানান, হামলার পরপরই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্র তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বললেন, ‘একটি স্কুল, যেটি সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হওয়ার কথা, সেখানেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে—আমরা কখনো কল্পনাও করিনি।’
শুক্রবারের হামলার পর আগামী তিন মাসের মধ্যে স্কুলগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা নীতিমালা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এক শিক্ষার্থীর ৫৪ বছর বয়সী দাদি থিদারাত সংরাত বলেছেন, স্কুলে অস্ত্র তল্লাশি জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলও জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানোর কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা, বহন ও ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০১৭ সালের ক্ষুদ্র অস্ত্র জরিপের হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বেসামরিক নাগরিকদের হাতে আনুমানিক ১ কোটি ৩ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে প্রায় ১৫টি অস্ত্র। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ হার সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির বর্তমান অস্ত্র লাইসেন্স ব্যবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক হওয়ার আগে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ২০ বছর বয়স থেকেই অস্ত্র রাখার সুযোগ রয়েছে। এমনকি লাইসেন্সধারীদেরও নিয়মিত পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেই।





