সহিংস ভিডিওতে আসক্তি ছিল স্কুলে বন্দুক হামলাকারী থাই কিশোরের

ছবি: রয়টার্স
একটি এয়ারগান স্কুলে নিয়ে যাওয়ায় এক বছর আগেই শিক্ষকের হাতে ধরা পড়েছিল সে। কিন্তু সেখানেই থামেনি বন্দুকের প্রতি তার আগ্রহ। পুলিশ বলছে, অনলাইনে সহিংস ভিডিও দেখার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর কৌশলও শিখেছিল থাইল্যান্ডের সেই কিশোর। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ব্যাংককের বাইরে তার হাতে রক্তাক্ত হলো একটি বাড়ি ও একটি স্কুল। প্রথমে নিজ বাড়িতে দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যার পর স্কুলে গিয়ে আরও ছয়জনকে হত্যা করে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর। পরে নিজের দিকেই বন্দুক তাক করে আত্মহত্যা করে সে।
পুলিশ রবিবার জানিয়েছে, গত বছর ওই কিশোর স্কুলে একটি বিবি গান বা এয়ারগান নিয়ে গেলে এক শিক্ষক সেটি জব্দ করেছিলেন।
শুক্রবারের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক পুলিশ অঞ্চল-১-এর উপকমিশনার আত্তাপোল আনুসিত।
তিনি বলেছেন, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রায় এক থেকে দুই বছর ধরে ওই কিশোর আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার শেখার প্রতি আগ্রহী ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, ব্যবহৃত গুলির খোসা এবং একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়েছে।
ওই কম্পিউটার পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, কিশোরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতাসংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও দেখত। তবে এখন পর্যন্ত সে নিয়মিত গুলি চালানোর অনুশীলন করত—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর গত ১২ বছর ধরে দাদা-দাদির সঙ্গেই বসবাস করছিল সে।
এদিকে ঘটনার পর স্কুলগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে থাইল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় মহড়া এবং স্কুলে হয়রানি বা নিপীড়ন বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ।
এ ছাড়া স্কুলে নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ সামগ্রী প্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর নজরদারির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
শুক্রবারের হামলায় নিহতদের পাশাপাশি ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। ২০২২ সালের পর এটিই থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ গণগুলির ঘটনা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার দেশটিতে এ ঘটনার পর আবারও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।





