ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে রাশিয়া-চীনের ভেটো

ছবি: রয়টার্স
ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। প্রস্তাবটি পাস হলে ইরানের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন নজরদারি করতে পারতেন জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি আটকে যায়। গত বছর পশ্চিমা দেশগুলো ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। তবে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা কিংবা চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ভোটের পর নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে ইরান ইস্যুতে বিপজ্জনক পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
নেবেনজিয়া বলেছেন, এসব পদক্ষেপ পারস্য উপসাগরীয় সংকট সমাধানের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে।
২০২৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল পুনর্বহাল করেছিল। নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী পদক্ষেপের সুপারিশ করার কথা ছিল প্যানেলটির।
তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণে বিশেষজ্ঞরা কখনো নিয়োগ পাননি। ফলে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে তৈরি হয়নি ঐকমত্য।
বৃহস্পতিবারের ভোটে ১১টি দেশ নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেয়। পাকিস্তান ও সোমালিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। তবে রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়নি।
জাতিসংঘে ইরানের মিশন রাশিয়া ও চীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের মিশন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা পরিষদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আরেকটি প্রচেষ্টা রাশিয়া ও চীন ঠেকিয়ে দিয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বহাল করা হয়। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য স্ন্যাপব্যাক বা আগের নিষেধাজ্ঞা আবার ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা কার্যকর করার পর ইরানের পরমাণু ও সামরিক কর্মসূচির ওপর আগের ছয়টি নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর হয়।
ভোটের পর জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত জেনিফার লোসেটা বলেছেন, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল না থাকলে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক প্রতিবেদন পাওয়ার প্রধান উৎস থেকে নিরাপত্তা পরিষদ বঞ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেছেন, এতে নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। এর সুবিধা পাবে ইরান সরকার এবং যারা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামিকে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে বাধা দেয়।
ইরানের বিরুদ্ধে স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন নিরাপত্তা পরিষদ নাকচ করার পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসলামি ও তার প্রতিনিধিদলকে পাঁচ দিনের ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সফর বাতিল করতে হয়। পরে অস্ট্রিয়া তার ভিসা বাতিল করে।
স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা




