যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির খুব কাছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
একেক সময় একেক কথা ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি
‘খামখেয়ালি মেজাজ। একেক সময় একেক কথা। আগামাথা নেই কোনো কথারই। সই হওয়ার আগপর্যন্ত নেই কোনো বিশ্বাস।’ যুক্তরাষ্ট্রের ‘আনপ্রেডিক্টবেল বা অননুমেয়’ তকমাধারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘিরে এসব বিশেষণ নতুন কিছু নয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে তার প্রতিদিনের বিবৃতিই এর বড় প্রমাণ। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর এ ইস্যুটি নিয়ে এক শনিবারই ‘হাজার কথা’ বলেছেন ট্রাম্প। সর্বশেষ মন্তব্যটি হলো— যুদ্ধ বন্ধের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র।
অথচ কয়েকঘণ্টা আগেই বলেছিলেন, চুক্তি না হলে ইরানকে এমনভাবে আঘাত করা হবে, যা আগে কোনো দেশ কখনো দেখেনি। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকে ফের তার স্বভাবসুলভ গোলকধাঁধায় ফেললেন ট্রাম্প।
সিবিএসে প্রকাশিত এদিনের শেষ বক্তব্য, ইরানের একটি খসড়া চুক্তি দেখেছেন তিনি। সেটি যথেষ্ট কি না প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘আমি জানি না, এ বিষয়ে আপনাকে কিছু বলতে পারব না। আমি শুধু এমন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবো যেখানে আমরা যা চাই সবই পাবো।’ অথচ সকালেই অ্যাক্সিওসকে বলেছিলেন, চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ৫০/৫০। যদি চুক্তি না হয়, তবে তিনি ইরানকে ‘জাহান্নামে পাঠিয়ে দেবেন’। আরও বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি এখন দুটি জিনিসের যেকোনো একটি ঘটবে—হয় ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন আঘাত হানব তাদের ওপর, না হয় একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি। আমার প্রশাসনের ভেতরেও মতভেদ আছে। কিছু মানুষ দ্রুত চুক্তি চাইছে, আবার অনেকে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পক্ষে।’ অথচ আগের দিন শুক্রবারে তার বক্তব্য ছিলো আরও আক্রমণাত্মক। রীতিমতো রণংদেহী। জরুরি নোটিশে উল্লেখযোগ্য কিছু মার্কিন কর্মকর্তার ‘মেমোরিয়াল ডে উইকেন্ডের’ ছুটি বাতিল করেন যুক্তরাষ্ট্রর প্রেসিডেন্ট। পুরোদমে চলছিল ‘নতুন হামলা’র প্রস্তুতি। প্রহর গুনছিল সবাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের। পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এমনটাই জানিয়েছিল সিবিএস নিউজ। এখানেই শেষ নয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে শনিবার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিয়েতেও উপস্থিত থাকতে না পারার আগাম ঘোষণায় গরম করে দেন মরু হাওয়া। পালটে ফেলেন নিউ জার্সির গলফ রিসোর্টের সাপ্তাহিক ছুটির শিডিউলও। সেখানে তার অবকাশ কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে হোয়াইট হাউজে ফিরে যাওয়ার কথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে কিছুটা হলেও যুদ্ধ বন্ধের একটি স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শনিবার নয়া দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আজ রাতে কিংবা আগামীকালের মধ্যে বড় কোনো খবর পেতে পারি আমরা। আবার নাও পেতে পারি। তবে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে পর্দার আড়ালে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বলেছেন—এই সমস্যার সমাধান একটি উপায়ে হবেই।’
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় শুরু হওয়া সংঘাত এখন ১৩তম সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও গতকাল শুক্রবার থেকে গুঞ্জন উঠেছে—নতুন করে ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
আকাশসীমা বন্ধ করল ইরান
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা শনিবার দিয়েছে দেশটির পশ্চিমের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা। তাও আবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর পাওয়ার পর।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, তেহরানের ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়নের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বিমানবন্দরগুলোতে সব বেসামরিক ফ্লাইটের অনুমতি করা হয়েছে স্থগিত। তেহরানের মেহরাবাদ ও ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরের পাশাপাশি ইসফাহান, ইয়াজদের বিমানবন্দরসহ সারা দেশে চালু রয়েছে মাত্র আটটি বিমানবন্দর।
এমনকি সেই বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের আলোয় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোকে প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা থেকে নিতে হচ্ছে নতুন করে অনুমোদন।




