ট্রাম্পের চাপেও নতি স্বীকার করবেন না স্টারমার

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিরোধ তীব্র হওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছেও নতি স্বীকার করবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল বা বদলে দেওয়ার হুমকিতেও বদলাবে না তার অবস্থান।
ট্রাম্প নতুন করে স্টারমারকে আক্রমণ করে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ‘সব সময় বদলানো যেতে পারে’ এবং দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক এখন রয়েছে ‘দুঃখজনক’ অবস্থায়। তিনি উত্তর সাগরে তেল উত্তোলন নীতিকে ‘মর্মান্তিক ভুল’ বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতিকেও আখ্যা দেন ‘পাগলামি’ হিসেবে।
পাল্টা জবাবে স্টারমার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘ইরান যুদ্ধ নিয়ে আমার অবস্থান শুরু থেকেই পরিষ্কার। আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব না। এটি আমাদের যুদ্ধ নয়।’
এদিকে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরুর আর সামান্য সময় বাকি। ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিলের এ সফর হবে রাজা হিসেবে চার্লসের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজনের সূচনা চিহ্নিত করবে এটি, তবে এবার তা হবে টানাপোড়েনপূর্ণ এক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে।
ট্রাম্প বারবার স্টারমার ও অন্য ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন, কারণ তার মতে তারা ইরান যুদ্ধে সমর্থন দেয়নি। বিশেষ সম্পর্ককে কীভাবে দেখেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কার সঙ্গে?’ পরে অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধের সময় ‘যখন তাদের দরকার ছিল’, তখন ব্রিটেন ও অন্য ন্যাটো মিত্ররা পাশে ছিল না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের একটি ভালো বাণিজ্যচুক্তি দিয়েছি। যতটা দেওয়ার দরকার ছিল, তার চেয়েও ভালো। যা সব সময় বদলানো যেতে পারে। কিন্তু আমরা তাদের খুব ভালো একটি বাণিজ্যচুক্তি দিয়েছি, কারণ তারা অনেক সমস্যায় আছে।’
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র জানান, বিশেষ সম্পর্ক ‘বহু স্তরে বিদ্যমান’ এবং ‘যেকোনো একক ইস্যুর চেয়ে অনেক বড়’। তার ভাষ্য, বাণিজ্য ইস্যুতে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এখনও মার্কিন সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে বিদ্যমান চুক্তি নতুন করে খোলার বিষয় আলোচনায় নেই।
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় বাণিজ্যচুক্তি ছিল এটি। এতে গাড়ি ও ইস্পাতে কিছু শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে ব্রিটিশ বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো হয়। তবে ব্রিটিশ ইস্পাতের ওপর শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়ায় শিল্পখাতে রয়ে গেছে চাপ।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস উৎপাদন বন্ধের নীতিতে স্টারমার ‘মর্মান্তিক ভুল’ করেছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাজ্যের অভিবাসননীতি ‘পাগলামি’ এবং ‘তারা তোমাদের দেশ ধ্বংস করছে... তোমাদের দেশ আক্রমণের শিকার হচ্ছে।’
তিনি আরও বললেন, ‘এভাবে সফল হওয়া সম্ভব নয়, অসম্ভব।’ তবে যোগ করেন, ‘আমি দেশটিকে সফল হতে দেখতে চাই।’
পরে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাজ্যকে ‘এই উইন্ডমিলগুলো বন্ধ করতে হবে এবং উত্তর সাগর খুলে দিতে হবে’। তিনি সান পত্রিকার একটি নিবন্ধও পুনরায় পোস্ট করেন, যার শিরোনাম ছিল: ‘গরম বাতাস যদি অস্ত্র হতো, স্টারমার ব্রিটেনকে পুনরায় সশস্ত্র করতেন—কিন্তু শুধু কথায় যুদ্ধ জেতা যায় না।’
হরমুজ প্রণালির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিরোধের মধ্যেও ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে বলেন, ‘নিজেদের তেল নিজেরাই বের করে নাও’ এবং জানান, যুক্তরাষ্ট্র ‘আর সাহায্য করবে না’।
তবে বাকিংহাম প্যালেস রাজা চার্লসের সফরের সূচি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প তাকে ‘একজন দারুণ ভদ্রলোক’ বলে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে বলেন, স্টারমারের সঙ্গে তার টানাপোড়েন এই রাজকীয় সফরকে ‘কোনোভাবেই’ ছাপিয়ে যাবে না।
স্কাই নিউজকে ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার একটি সমঝোতা ‘খুবই সম্ভব’। সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অংশ নেওয়া আলোচনা অবশ্য শেষ হয়েছে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি ছাড়াই।

