জোটসঙ্গী মমতাকেও ছাড় দিলেন না রাহুল

পশ্চিমবঙ্গে প্রচারণায় রাহুল গান্ধী
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আর এই প্রচারণাতেই ‘এপস্টিন ফাইল’ প্রসঙ্গ তুলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে করলেন আক্রমণ। তবে শুধু বিজেপিই নয়, জোট শরীক তৃণমূল কংগ্রেসকেও ছাড় দেননি রাহুল।
রাহুলের অভিযোগ, ‘এপস্টিন ফাইলে’ থাকা তথ্য গোপন রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোদিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। একইসঙ্গে তার দাবি, এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেরা কাজ না করে বিজেপির জন্য তৈরি করে দিচ্ছে রাজনৈতিক মাঠ।
রাহুল বললেন, ‘এখন দেশে চলছে দু’টি বিচারধারার লড়াই। একদিকে কংগ্রেস চায় একতা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। অন্যদিকে বিজেপি ও আরএসএস করছে বিদ্বেষ ও হিংসার রাজনীতি। তারা দেশকে বিভক্ত করতে চাইছে এবং আঘাত হানছে সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার উপর।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি-আরএসএস এই রাজ্যের লাখ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে ফের অন্তর্ভুক্ত করা হবে সেই নাম।
প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে রাহুল বলছেন, ‘মোদি নিজেকে দেশভক্ত বলেন, কিন্তু এখন তিনি ভীত। এপস্টিনের ৩৫ লাখ ফাইলের মধ্যে তার চরিত্র বন্দী।’
তার আরও দাবি, ‘মোদির ভবিষ্যৎ এখন ট্রাম্পের হাতে, তার ‘রিমোট কন্ট্রোল’ চলে গেছে অন্যের হাতে।’
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে রাহুল উল্লেখ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে একের পর এক বন্ধ হয়েছে কারখানা এবং বেড়েছে বেকারত্ব।
দুর্নীতির প্রসঙ্গে সারদা ও রোজ ভ্যালি কেলেঙ্কারির উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, লাখ লাখ মানুষের ডুবে গেছে হাজার হাজার কোটি টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তার বক্তব্য, প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান বাস্তবায়িত হয়নি; বরং লাখ লাখ যুবক-যুবতী বাধ্য হয়েছেন বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে। এ ছাড়া তার বক্তৃতায় উঠে আসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, এসএসসি কেলেঙ্কারি এবং আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনাও।
শেষে রাহুল দাবি করেন, কংগ্রেসই একমাত্র দল যা সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপিকে পরাজিত করতে পারে। সেই লক্ষ্যে বাংলায় ‘বদলের’ ডাক দিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

