থানা ঘুরে খাতা ফিরল দপ্তরে
- কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ৬৯ পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হয় গত শুক্রবার
- ২০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নেন পাঁচ হাজারের কম
- নকল ধরতে গিয়ে বের হয়ে আসে প্রশ্ন ফাঁসের খবর

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন না ঢাকায়। বাইরে থাকলেও তার কানে যায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় ঝামেলার খবর। অভিযোগ ওঠে প্রশ্নপত্র ফাঁসের। মন্ত্রীর কড়া অবস্থান— বাতিল হবে এ পরীক্ষা। তার নির্দেশেই পরীক্ষার খাতা পাঠানো হয় রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায়। ঘটনা গত শুক্রবারের।
এরপরই পাল্টাতে থাকে পরিস্থিতি। জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সংস্থা। বদলে যায় সিদ্ধান্তও। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রেই মূল্যায়ন হবে পরীক্ষার খাতা। চাকরিও হবে তাদের।
পুলিশের ঘর ঘুরে আজ বুধবার সকালে খাতাগুলো আসে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে পৌঁছায় দপ্তরে।
প্রধান সহকারী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৬৯টি পদে সংস্থা দিয়েছিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। শুক্রবার এর পরীক্ষা হচ্ছিল শাহজাহানপুরের কয়েকটি স্কুলে। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল প্রায় ২০ হাজারের; কিন্তু অংশ নেন পাঁচ হাজারের কম।
ভালোই চলছিল সব। কিন্তু বিপত্তি বাধে নকল ধরা পড়ার পর। এ থেকে সন্দেহ হয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের।
বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর হয়ে মন্ত্রণালয়ে চলতে থাকে দেনদরবার। ঢাকার বাইরে থাকলেও শ্রমমন্ত্রী হয়ে যান এর অংশ।
সেই খাতাই দেখা হবে আজ, যা এখন কাকরাইলের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে। খাতা দেখবেন যে স্কুলে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল, সেই স্কুলের শিক্ষকরা। তারা আবার বেশি নম্বর দেন কি না, রয়েছে সেই সন্দেহও।
এসব তদারকির ভার পড়েছে ১৫ কর্মকর্তার ওপর। তাতে জায়গা করে নিয়েছেন উপমহাপরিদর্শক, সহকারী মহাপরিদর্শকের মতো ‘হাইভোল্টেজরাও’। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপমহাপরিদর্শক শিউলি আকতার, সোমা রায় ও সাবিহা মুক্তা; সহকারী উপমহাপরিদর্শক জর্জিনা আক্তার স্মৃতি; তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ফোরকান আহসান; গ্রন্থাগারিক কোরবান আলী; পরিসংখ্যান ও গবেষণা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন; আইন কর্মকর্তা নজমুল ইসলাম; সহকারী মহাপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান এবং শ্রম পরিদর্শক শেখ নুরুজ্জামান, ওহীদুর রহমান, মেহরাব হোসাইন, মাহফুজুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম।
এন্তার অভিযোগ সরকারি দপ্তরের চাকরির পরীক্ষা নিয়ে। দিনের পর দিন, বছর, এমনকি যুগে যুগে একই পরিস্থিতি। যেন এর থেকে নেই কোনো মুক্তি। জনপ্রত্যাশা ছিল, দূর হবে এই অনিয়ম। তবে দূর তো হয়ইনি, বরং একই পথে হাঁটছে এই নয়া সরকারও।
এ বিষয়ে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আরিফ আহমেদ খানের সঙ্গে। তাকে ফোন দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বার্তা দিলেও জবাব দেননি তিনি।

