আসছে ককরোচ, কাঁপছে দিল্লি
- সম্ভবত বিমানবন্দরেই গ্রেপ্তার করা হবে আমাকে: অভিজিৎ দীপকে
- অনুমতি নিয়ে কি কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কোনো আন্দোলন হয়
- কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে মন্তর চত্বর। দাঁড় করানো হয়েছে উঁচু উঁচু ব্যারিকেড

সংগৃহীত ছবি
দূর আমেরিকায় বসেই ঝড় তুলেছিলেন ভারতে। নাড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও ‘বিশ্ব বৃহত্তম’ দম্ভের বটবৃক্ষকেও। গত ১৬ মে দল ঘোষণার পাঁচ দিনেই পেছনে ফেলেছেন ভারতের সবচেয়ে পুরনো দল শতবর্ষী কংগ্রেসকেও। আজ উপস্থিত হচ্ছেন সশরীরে। সবকিছু ঠিক থাকলে সকাল ৯টার আগেই দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছোঁবেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তরুণ নেতা অভিজিৎ দীপকে (৩০)।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ধরনায় বসবেন দিল্লির যন্তর-মন্তরে। কী হয়, কী হবে আতঙ্কে আগের দিন শুক্রবার থেকেই নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি পুলিশ। প্রতিবেশী নেপাল-বাংলাদেশের মতো বড় আন্দোলনের পূর্বাভাসে কাঁপুনি উঠেছে মোদি-শিবিরেও।
আতঙ্কে রয়েছেন অভিজিৎ নিজেও। দেশে ফেরার আগেই সে চিত্র ফুটে উঠেছে তার বক্তব্যে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন,‘সম্ভবত বিমানবন্দরেই গ্রেপ্তার করা হবে আমাকে।’
তারপরও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে থাকবেন অনড়। পোস্টে নিজের ভাগ্য এবং আগামী লক্ষ্য ভারতের সংবিধানের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিজিৎ। পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের প্রতি এই দাবি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতার ডাকে সাড়া পড়েছে তার সমর্থক মহলেও। ধারণা করা হচ্ছে, সকাল হতেই ককরোচের বড় ঢেউয়ের নাচন দেখবে দিল্লি। এরই মধ্যে তাকে সমর্থন করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ। হরিয়ানার পানিপথের আইনজীবী সুধীর জাখর নিজেকে সংগঠনের সভাপতি বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন, তিনি এই ধরনায় যোগ দেবেন। কুরুক্ষেত্রে কৃষক নেতা গুরুনাম সিং চারুনির সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে আজ বড় ধরনা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে সিজেপি। শুক্রবার দলীয় বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সকাল ৯টায় দিল্লির যন্তর-মন্তরে সমবেত হয়ে জোরদার করবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি। যেসব ব্যক্তি ধরনায় যোগ দেবেন তাদের তরফে কোনোরকম প্ররোচনায় পা না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি নেতৃত্ব।
সামাজিক মাধ্যমের ওই পোস্টে সমর্থকদের জানানো হয়েছে, ‘জাতীয় পতাকা নিয়ে আসবেন। একা আসবেন না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসুন। পরিবারের সঙ্গে এলে তবেই সদস্য সংখ্যা বাড়বে এবং সংগঠন শক্তিশালী হবে। ফুল সঙ্গে নিয়ে আসবেন এবং সেগুলো পুলিশের হাতে দিয়ে দেবেন। আমাদের দেশের যুবকদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। পুলিশকর্মীরা পেশাদার। ফলে তাদের কথায় কোনো প্ররোচনায় পা দিয়ে, পেশাদারদার সঙ্গে প্রতিযোগিতা বা সংঘাতে জড়াবেন না। বাড়ি থেকে খাওয়া-দাওয়া সেরে আসবেন। ক্ষুধার্থ অবস্থায় এখানে আসবেন না। বিপ্লবের জন্য প্রাতরাশ প্রয়োজন।’
শুক্রবার সকাল ৯টায় নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি জানাবে ককরোচ জনতা পার্টি। এদিন সকালে নয়াদিল্লি পৌঁছাবেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
বাধা নেই আদালতের
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মাঠে নামার ঠিক আগের দিনই আদালত থেকে নৈতিক জয় পেল সিজেপি। তাদের যন্তর-মন্তর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে যে মামলা করা হয়েছিল, তা জরুরি ভিত্তিতে শুনলেনই না দিল্লি হাইকোর্ট। থেমে নেই মোদি প্রশাসনও। গতকাল শুক্রবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে মন্তর-মন্তর চত্বর। দাঁড় করানো হয়েছে উঁচু উঁচু ব্যারিকেড। যদিও দিল্লি পুলিশ দুপুরে দাবি করে, এ কর্মসূচির জন্য এখনো তাদের কাছে কোনো চিঠি পৌঁছায়নি।
তবে সিজেপির দাবি, পুলিশের অনুমতি না মিললেও তারা শনিবার পথে নামবেন এবং যন্তর-মন্তর পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করবেন। জেন-জি মুখপাত্র সৌরভ দাসের দাবি, ‘এভাবে অনুমতি নিয়ে কি কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কোনো আন্দোলন হয়? এই প্রথাই আমরা বদলাতে চাই। এই পরিবর্তনই আমাদের দাবি।’ আন্দোলন কত গুরুতর হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো আন্দাজ করতে পারছে না পুলিশ।




