‘স্টেশন ঘুরে অর্ধেকের বেশি দিন পার, তেল মিলেছে ৩০০ টাকার’

ছবিঃ আগামীর সময়
বুধবার
ভোর ৫টা। বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকা।
রাস্তার পাশে থ্রি হুইলার
মাহিন্দ্রার সিরিয়াল আধা
কিলোমিটার। কারণ
ডিজেল। কয়েকদিন
যাবত এমন চিত্রই দেখা
যাচ্ছে বরিশাল নগরে।
দীর্ঘ অপেক্ষা করে তেল মিললেও
সন্তুষ্টি মিলছে
না এসব যান
চালকদের। তারা জানিয়েছেন,
যে তেল দেওয়া হয়
তা দিয়ে চলে
না একদিনও। তেল সংকটে যাত্রী
পরিবহন করতে না
পেরে পরিবার
নিয়ে জীবনধারণ করা
কঠিন হচ্ছে তাদের।
ডিজেল চালিত
থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রার চালক
শামসুর রহমান বলেছেন, কয়েক দিন ধরেই পাচ্ছি
না ডিজেল। এ
সমস্যা বেশি পহেলা
বৈশাখের আগের
দিন থেকে। তেল
নেই কোনো পাম্পে। তাই আজ সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি ভোর
৫টা থেকে।
আরেক চালক জয়নাল
মৃধা জানান, ভোর
থেকে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল ৯টায় ডিজেল পেয়েছি তাও ৩শ
টাকার। এক লিটার তেলে গাড়ি চলে
১৮ কিলোমিটার।
প্রতিদিন গাড়ির মালিককে জমা
দিতে হয় ৭০০ টাকা।
তারপর নিজের সংসার।
এই তেলে আর কয়
কিলো গাড়ি চালাব? আর
মালিককে জমা দিয়ে কেমনে
চলবে আমার সংসার?
‘প্রথমে তেলের জন্য
সিরিয়াল দেই কলেজ রোডের ইসরাইল
তালুকদার ফিলিং স্টেশনে। সেখানে তেল
না পেয়ে যাই
ভূইঞা ফিলিং স্টেশনে। দুপুর
২টার দিকে ডিজেল পেয়েছি ৩শ টাকার। দিন চলে গছে
অর্ধেকের বেশি। দুটি ট্রিপ দিলেই শেষ তেল।
তারপর কি করবে
জানি না’— বলছিলেন
থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রার চালক
সুমন মোল্লা।
ভূইঞা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আনিসুর রহমান জানান, পেট্রোল ও অকটেন
ছিল। তবে
গত রাত ১২টার দিকে
শেষ হয়ে গেছে ডিজেল। তাই বিশাল
সিরিয়াল পড়েছে থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রার। দুপুরে এসেছিল
তেলের গাড়ি।
এখন তেল পাচ্ছে
সবাই। ডিজেল, প্রেট্রোল ও অকটেন ৩শ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না।
ইসরাইল তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুর
রবের ভাষ্য, ‘পাম্প খোলা পর্যন্ত অনেক সিরিয়াল ছিল থ্রি
হুইলারের। এখনও রয়েছে, তবে সবাইকে নির্দিষ্ট
পরিমাণে দেওয়া
হচ্ছে তেল।’
প্রত্যেকটি পাম্পে নজরদারি রয়েছে আমাদের।
কারও তেল মজুদ
করার সুযোগ নেই
বলে জানান বরিশাল জেলা
প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন।

