এমন যদি হতো ...

২০১৯ সালের মাঝামাঝি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর দাবানলের কবলে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য। কয়েক মাস ধরে জ্বলা ওই আগুনে পুড়ে মরেছিল লাখো পশুপাখি। ভস্ম হয়েছিল হাজারও বাড়িঘর।
ওই বছরের নভেম্বর মাসের একটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে। আগুনের লেলিহান শিখার তোয়াক্কা না করে পুড়তে থাকা একটি কোয়ালাকে উদ্ধার করেছিলেন এক নারী। আগুন লেগে গিয়েছিল কোয়ালাটির শরীরেও।
টনি দোহার্তি নামের ওই নারী বাধ্য হয়ে তার গায়ের জামা খুলে জড়িয়ে নিয়েছিলেন অবলা প্রাণীটিকে। টনির সেই প্রচেষ্টা আলোড়ন তুলেছিল সারা বিশ্বে।
কিন্তু গত শনিবার ঠিক বিপরীত একটি ঘটনা ঘটে গেল বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায় একটি চিত্রা হরিণকে হত্যা করা হয় নির্মমভাবে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় প্রাণীর প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতম আচরণের দৃশ্য।
ভিডিওতে দেখা যায়, জলাশয়ের পাশে একটি মায়াবী চিত্রা হরিণের পা চেপে ধরে রয়েছেন এক ব্যক্তি। অন্য একজন দা দিয়ে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন হরিণটির গলা। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক ব্যক্তি।
হরিণ জবাইয়ের সময় কাছাকাছি স্থান থেকে ধারণ করা হয়েছে ভিডিওটি। ছয় সেকেন্ডের ভিডিওতে হরিণ জবাইকারী ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভিডিও করার কারণে।
বন বিভাগের তথ্য বলছে, মিরসরাই উপজেলার উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল একসময়। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এই বনে ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখপাখালি। তবে এলাকাটিতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে উজাড় হতে শুরু করে বন। হারিয়ে যেতে থাকে বন্য প্রাণী ও পাখপাখালি।
অবশ্য, এখনো কিছু প্রাণী টিকে আছে সেখানে। বন কর্মকর্তাদের ধারণা, জবাই করা চিত্রা হরিণটি দলছুট হয়ে সেখান থেকে এসেছে।
মিরসরাইয়ের এ ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠেছে আমাদের মানবিকতা নিয়ে, প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার এক নারী যেখানে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুনে পোড়া কোয়ালাকে বাঁচাতে পারেন, সেখানে আমরা কেন বনের প্রাণীকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে হত্যা করছি? প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে আমরাও কেন টনির মতো হতে পারি না?

