চট্টগ্রাম
বাবার বাড়ির কবরস্থানে দাফন হলো না মেয়ের

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের মরদেহ বাবার বাড়ির সামাজিক কবরস্থানে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়দের বাধার কারণে দাফন সম্পন্ন করা হয় অন্য জমিতে।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে বৈরাগ ইউনিয়নের ফকিরখীল এলাকার ঘটনা এটি। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রবিবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হিজবুল্লাহ বাহার (৪৮)। ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সৈয়দুল হকের মেয়ে তিনি।
দুপুরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে দাফনের জন্য বাবার বাড়ির সামাজিক পুরনো কবরস্থানে প্রস্তুতি নেন স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, এ সময় ফকিরখীল এয়ার আলী খান সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি জামশেদ উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন কবর খননে বাধা দেন এবং সেখানে দাফনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
নিহতের ছোট ভাই মো. মুজিবুর রহমান জানান, ১৯৯৬ সালে বন্দর থানা এলাকার আবদুর রশিদের সঙ্গে বিয়ে হয় তার বোনের। এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তাদের। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বাবার জমিতেই বসবাস করছিল পরিবারটি। ‘সকালে হাসপাতালে মৃত্যুর পর আমরা সামাজিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিই, কিন্তু সমাজের সভাপতি জামশেদ উদ্দিনসহ কয়েকজন এসে বাধা দেন এবং জানান, তিনি ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন, তাই এখানে দাফন করা যাবে না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে পড়ি। কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত পৈতৃক কবরস্থান বাদ দিয়ে আমার এক চাচাতো ভাইয়ের নিজস্ব জমিতে কবর খনন করে বোনের লাশ দাফন করতে বাধ্য হয়েছি।’
সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি জামশেদ উদ্দিনের দাবি, সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী ওই কবরস্থানে স্থানীয়দের বাইরে কাউকে দাফনের সুযোগ নেই। তাই দাফন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তার ভাষ্য, এ ঘটনায় পরিস্থিতি অযথা জটিল করা হয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে অন্য একটি জায়গায় দাফন সম্পন্ন করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা।


