ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত বাংলাদেশি যুবক

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার এক বাংলাদেশি যুবক।
নিহত মাফল মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং বানু মিয়ার ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, জীবিকার তাগিদে এক মাস ১২ দিন আগে রাশিয়ায় যান মাফল। রাজমিস্ত্রির কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নেওয়া হলেও পরে তাকে পাঠানো হয় যুদ্ধের ময়দানে। গত ২৯ মে থেকে তার সঙ্গে ছিল না পরিবারের কোনো যোগাযোগ। পরে রবিবার স্বজনদের জানানো হয়, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মাফল একাধিকবার মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন, যে কাজের আশ্বাস দিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই কাজ দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে তাকে পাঠানো হয়েছে যুদ্ধের ময়দানে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের কাছে দোয়াও চেয়েছিলেন তিনি।
নিহতের চাচা আনিস বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় গিয়েছিল আমার ভাতিজা। যে এজেন্সির মাধ্যমে গেছে সে, তারা বলেছিল রাজমিস্ত্রির কাজের কথা। পরে জানতে পারি, তাকে পাঠানো হয়েছে যুদ্ধে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, যেন আর কোনো বাংলাদেশি এমন দালাল চক্রের শিকার না হয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’
নিহতের ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এক মাস ১২ দিন আগে রাশিয়ায় গিয়েছিল আমার ভাই। আজ জানতে পারলাম ড্রোন হামলায় মারা গেছে সে। সরকারের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’
নিহতের বোন আছিয়া বলেন, ‘একসঙ্গে রাশিয়ায় গিয়েছিল আমার ভাইসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি। তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় সেনা শিবিরে। আমার ভাই অনেক অনুরোধ করেছিল, কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি। এখন আমাদের একটাই দাবি, তার মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। পরিবারের সঙ্গে করা হচ্ছে যোগাযোগ। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জানানো হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।


