বিনিয়োগে গতি ফেরাতে সরকারের বড় পদক্ষেপ

সংগৃহীত ছবি
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনে দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ খাতকে গতিশীল এবং পুনরুজ্জীবিত করতে সুনির্দিষ্ট ও কাঠামোগত নানা সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বইয়ে এই চিত্র তুলে ধরা হয়। মূলত মূলধন প্রবাহ বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারের সংস্কার, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং ব্যবসা সহজীকরণের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই ছিল এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
সরকারের এসব সাম্প্রতিক উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে বৈদেশিক বিনিয়োগে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে নিট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যা আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ছিল ১২৩ কোটি ডলার। একই সঙ্গে দেশে মোট এফডিআইয়ের স্থিতি বেড়ে ১ হাজার ৯৬৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে বিনিয়োগ পরিষেবাকে এক ছাতার নিচে এনে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে বিডা, বেজা এবং পিপিপিজা একীভূত করে শীর্ষ একটি সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন ও পাস করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করা হয়েছে। এর ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমেছে এবং সময় ও খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও বেড়েছে বলে বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের দ্রুত ও ঝামেলাহীন সেবা দিতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ইএমএস সফটওয়্যারকে বিডার বাংলা বিজ পোর্টালের সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন সীমিত করে রাখা বিতর্কিত ফ্লোর প্রাইস বা কৃত্রিম মূল্যসীমা সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে স্বচ্ছতা আনতে এআই ভিত্তিক আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু, বহুজাতিক ও লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ এবং ‘৩আর’ কৌশল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি জোরদার করতে এবং তৈরি পোশাক খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ১৯ হাজার কোটি টাকার চারটি পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের কার্যকর মূলধন সহায়তায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পোশাকের বাইরে বিকল্প পণ্য রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পের বিকাশে বিশেষ এক হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।






