ক্যানিজিয়ার গর্ব মেসি-ম্যারাডোনায়

ছবি: আগামীর সময়
তিনি দেখতে দারুণ সুপুরুষ। লম্বা গড়ন, মাথায় সেই সোনালী চুল নেমে এসেছে কাঁধ পর্যন্ত। এই চুল নিয়েই বিপত্তি বেধেছিল ’৯৪ বিশ্বকাপে, আর্জেন্টিনার কোচ ড্যানিয়েল প্যাসারেলা চুল ছোট করার আদেশ দিলেও তা মানেননি ক্লদিও ক্যানিজিয়া। আজও ফর্টিসের মাঠে সেই চুল চুল দিয়ে তাকে চিনে নিয়েছে নব্বইয়ের দশকের ফুটবলানুরাগীরা।
চেনার আরেকটা বড় উপায় হলো আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যরাডোনার বন্ধু ক্যানিজিয়া। সেই প্রয়াত বন্ধুকে স্মরণ করে সাবেক এই ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘সে আমার বন্ধু, তাকে অনেক মিস করি। অনেক বছর এক সঙ্গে খেলেছি। ডিয়েগোকে দেখে আমি বড় হয়েছি, সে বোকা জুনিয়র্সে দারুণ খেলতো। আর ওই চুমুর ব্যাপারটা ছিল আমাদের গোল উদযাপন, এ ছাড়া কিছুই না।’
১৯৮৬ বিশ্বকাপ ছিল ম্যারাডোনাময়। এর পরের বছরই ক্যানিজিয়ার অভিষেক হয় আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে। ’৯০ বিশ্বকাপে ইতালিতে দেখা গেছে তাদের জুটি। ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারে তখন গোধূলির ছায়া, তাতেও প্রতিপক্ষের চার ফুটবলারকে এক পাশে টেনে এনে বাড়ালেন চমৎকার পাস, এরপর ক্যানিজিয়ার বিখ্যাত গোলে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় শেষ ষোলোতে। সেমিফাইনালেও আছে তার আরেক গোল।
এই তারকা আজ এসেছেন বাংলাদেশ সফরে। বিকালে ৫ টায় ফর্টিস ফুটবল একাডেমির বাচ্চাদের সঙ্গে কাটিয়েছেন কিছু সময়। ৩৬ দল নিয়ে হওয়া ঢাকা ইন্টার স্কুল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল শেষ কিশোরদের হাতে তুলে দিয়েছেন পুরস্কার। এমন আর্জেন্টাইন তারকাকে কাছে পেলেই উঠবে সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং লিওনেল মেসির হতাশা নিয়ে ঘরে ফেরার প্রসঙ্গ। তার জবাবে ক্যানিজিয়া বলেছেন, ‘(ফাইনাল হারে) আমি অবশ্যই হতাশ। তবে স্পেন যোগ্য দলই হিসাবেই শিরোপা জিতেছে, ফাইনালটা ইভেন ছিল না। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ইনজুরড ও ক্লান্ত ছিল।’
তিনি খেলেছেন ম্যারাডোনার সঙ্গে। এরপর দেখছেন মেসিকে এবং তার কাছে দুটো চরিত্রই আলাদা, ‘আমার মনে হয় না, মেসি ম্যারাডোনার মতো। মেসি ৪৩ বছর পর্যন্ত খেলতে পারে। তার ইচ্ছা আছে কিনা জানি না, তবে সে খেলতেও পারে।’ ক্যানিজায়ার তার গর্ব মেসি-ম্যারাডোনায়, ‘গ্রেট ফুটবলারদের ইতিহাসে আছে পেলে, ম্যারাডোনা ও মেসি। আমরা দুজনকে পেয়েছি। এটাই আর্জেন্টিনার জন্য গর্বের।’






