টাকার সংকটে ইসলামী ব্যাংকের যশোর শাখাগুলো, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

ছবি: আগামীর সময়
যশোরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের তিনটি শাখা ও একাধিক এটিএম বুথে নগদ অর্থ সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
প্রয়োজনীয় সময়ে অর্থ উত্তোলন করতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও চাহিদামতো টাকা না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি আর্থিক লেনদেন।
রবিবার শহরের আরএন রোডস্থ ইসলামী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংক খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকায় অধিকাংশ গ্রাহককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের যশোরে আরএন রোডে কর্পোরেট শাখাসহ সিটি প্লাজা ও পালবাড়ি এলাকায় দুটি সাব-শাখা রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতিটি শাখাতেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিল্পনগরী নওয়াপাড়াতেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে অনেক গ্রাহককে ফিরে যেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ জানান, ব্যবসার কাজে পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি সকালে ব্যাংকে আসেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় অর্থ পাননি। তিনি বলছিলেন, ব্যাংকে নিজের টাকা তুলতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন আটকে আছে। এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন শাওন নামে আরেক গ্রাহক। তিনি বললেন, জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি। কর্তৃপক্ষ তাকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে বলেও জানান তিনি। নিজের জমা রাখা অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শুধু ব্যাংক শাখাই নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও এসি নষ্টের কথা উল্লেখ করে বুথ আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এটিএম নির্ভর গ্রাহকরাও নগদ অর্থ উত্তোলনে সমস্যায় পড়ছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার থেকে এ সংকট শুরু হয়েছে। কয়েকদিন ধরে নগদ অর্থ সরবরাহে সমস্যা থাকলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এতে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা সময়মতো অর্থ না পেয়ে চেকের পেমেন্ট, মালামাল ক্রয়, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধসহ নানা আর্থিক দায় পূরণে সমস্যায় পড়েছেন।
আমিনুর রহমান নামে এক গ্রাহক জানান, তিনি বৃহস্পতিবার সকালে পুলেরহাট এলাকার একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরে রেলগেট এলাকার আরেকটি বুথেও চেষ্টা করেও অর্থ তুলতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাময়িক নগদ অর্থ সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আতঙ্কের কারণে হঠাৎ করে অর্থ উত্তোলনের চাপ বেড়েছে বলেও তারা দাবি করেন। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ বজলুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে ব্যাংকে তারল্য সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি যেসব ঋণ গ্রহণ করেছেন তারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করলে সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে তারল্য সংকট অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সে কারণে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছেন।
তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় অর্থ না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


