শূন্যরেখায় মানবিক বিপর্যয়
গরমে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে টিকতে পারছি না : আটকে পড়ার চতুর্থ দিন

তীব্র গরমে বিপর্যস্ত শিশু-নারী। ছবি: সংগৃহীত
একে তো তীব্র গরম, তারওপর খাবার ও পানির সংকট, রয়েছে চরম অনিশ্চয়তাও। স্রেফ এক টুকরো প্লাস্টিকের পলিথিন আকড়ে ধরে এভাবেই দিন পার করছেন সীমান্তের ভারতীয় অংশে আটকে থাকা ১২ জন মানুষ।
গত শুক্রবার ভোর থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় অংশে কাঁটাতারের ওপারে আটকে আছেন তারা। এ দলের মধ্যে রয়েছে চার শিশু ও চার নারী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা বা পুশইনের শিকার হয়ে নো ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছেন ওই ১২ জন। তাদের অধিকাংশের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলায়।
সীমান্তে আটকে পড়া ১২ জনের জীবন যাপনের একটি ভিডিওচিত্র এসেছে দৈনিক আগামীর সময়ের হাতে। ৫৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, পাটক্ষেতের মধ্যে প্লাস্টিকের পলিথিনের ওপর গাদাগাদি করে বসে ও শুয়ে আছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা। তীব্র রোদে শিশুদের কান্না থামছেই না। কেউ কেউ হয়ে পড়ছে অসুস্থ। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স আনুমানিক দেড় বছর বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে থাকা এক ব্যক্তি অসহায় কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি খুব নাজুক। আমরা যে অবস্থায় আছি, আমাদের বাচ্চাকাচ্চারা প্রায় অসুস্থ। আমরা খুবই গরমের ভেতরে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে টিকতে পারছি না। আমাদের বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি। বাচ্চাকাচ্চার যে অবস্থা, কাপড়চোপড় নেই, কিচ্ছু নেই। খুব দূরবস্থায় আমরা আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে সব ডকুমেন্ট সব। আপনারা দেখেন, আমরা কি এদেশি নাগরিক না রোহিঙ্গা, আপনারা এটা তদন্ত করে দেখেন। আমাদের কাগজপত্র সবকিছু ওকে। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা আমাদের একটা সুব্যবস্থা করেন, আমাদের জীবনটা একটু বাঁচান।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাঁটাতারের কাছাকাছি ঠেলে দেয়। এরপর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। এই দলে থাকা নারীদের পাশাপাশি শিশুরা পড়েছে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে।
স্থানীয়রা মানবিক সহায়তা হিসেবে পানি ও খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে। মাথাভাঙ্গা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।
এদিকে পরিস্থিতির সমাধানে শনিবার সকালে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও বিজিবির মধ্যে প্রায় ২০ মিনিটের পতাকা বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান আসেনি। বিজিবি জানিয়েছে, নাগরিকত্ব ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করবে তারা।
তবে যাচাই প্রক্রিয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায় ওই ১২ জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এ অবস্থায় সীমান্তে আটকে পড়া পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



