শূন্যরেখায় মানবিক বিপর্যয়
কুষ্টিয়ার সীমান্তে তৃতীয় দিনের মতো আটকে আছেন নারী-শিশুসহ ১২ জন

সংগৃহীত ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে শূন্যরেখায় মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন নারী ও শিশুসহ ১২ জন মানুষ। ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার পর এখন ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশে খোলা আকাশের নিচে আটকা পড়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঠেলে দেওয়া ওই ১২ জনকে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাখা হয়। এরপর থেকে রোদ, বৃষ্টি ও খাদ্য-পানির সংকটে চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাদের মধ্যে রয়েছে চারজন নারী ও চারটি শিশু। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স প্রায় দেড় বছর।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তীব্র রোদ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের কান্না ও আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো সীমান্ত এলাকা। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মারাত্মক কষ্টে আছেন তারা। মাথার ওপর কোনো আশ্রয় না থাকায় পরিস্থিতি হয়ে পড়েছে আরও নাজুক।
শনিবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাধান হয়নি। বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ জানায়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানায়, আটকে পড়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করবে তারা। তবে এই প্রক্রিয়া কত সময় লাগবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে স্থানীয়রা মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি মাথাভাঙ্গা নদী থেকে বালতিতে পানি এনে পৌঁছে দিচ্ছেন ভুক্তভোগীদের কাছে। পাশাপাশি এনে দিয়েছেন সামান্য খাবারও।
জানা গেছে, আটকে পড়াদের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও খুলনার তিনটি পরিবারের সদস্যরা । সীমান্তে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের অবস্থানের কারণে তাদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।
বিজিবি বলছে, নাগরিকত্ব ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মানবিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ কমে।


