নাঙ্গলকোটে দুই মাদ্রাসায় পাস করেনি কেউ, ১৬টির ফল বিপর্যয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এবারের দাখিল পরীক্ষায় ৪১টি মাদ্রাসার মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি। এ ছাড়া আরও ১৬টি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় পাসের হার কম হওয়ায় ঘটেছে ফল বিপর্যয়। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
যে দুটি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেগুলো হলো শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১০ জন এবং দাসনাইপাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দুজন অংশ নেয় পরীক্ষায়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। ফল প্রকাশের পর এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না করায় প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাদ্রাসাগুলোতে স্থানীয়দের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ শ্রীহাস্য নেছারিয়া মাদ্রাসা থেকে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র তিনজন। পাসের হার ১৫ শতাংশ। পানকর ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১০ জনের মধ্যে পাস করেছে দুজন, পাসের হার ২০ শতাংশ। গোমকোট বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে পাস করেছে চারজন, পাসের হার ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।
বটতলী শামছুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ৩৩ জনের মধ্যে পাস করেছে সাতজন। পাটোয়ার ফাজিল মাদ্রাসায় ৩৫ জনের মধ্যে পাস করেছে আটজন, কাশিপুর নেছারিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে পাঁচজন এবং শ্রীকামতা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৩ জনের মধ্যে চারজন।
পূর্ববামপাড়া মাদানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে পাস করেছে সাতজন। হেসাখাল বাজার দাখিল মাদ্রাসায় ৫৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৯ জন, রুপা বেরি দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে সাতজন এবং মনোয়ারা মাহমুদা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে নয়জন।
এ ছাড়া শ্রীফলিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে পাস করেছে আটজন, শুভপুর দাখিল মাদ্রাসায় ২৬ জনের মধ্যে ১১ জন, পাটোয়ার সাদেকিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে আটজন এবং আইটপাড়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় আটজনের মধ্যে পাঁচজন।
গোমকোট গ্রামের বেলালের অভিযোগ, ‘প্রায় মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেছি, শিক্ষকরা ক্লাসে নাই। দোকানে বসে বসে আড্ডায় থাকেন তারা। পাস কম হবে না তো কী হবে।’
শ্যামপুর গ্রামের মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘মাদ্রাসাটি একদম নিরিবিলি এলাকায়। ভালো পড়ালেখা হওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষকরা অবহেলা করেছেন। ঠিকমতো ক্লাস করাননি তারা।’
নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনূস জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘ফল কেন বিপর্যয় হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করব। কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হবে, যাতে আগামীতে ভালো ফল করতে পারে।’





