রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রায় ১০০% ভোটে জয়ী পুতিনের মিত্র রমজান

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রমজান কাদিরভ। ছবি: ক্রেমলিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রমজান কাদিরভ রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত চেচনিয়া অঞ্চলের নেতা হিসেবে পঞ্চম মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। দেশটির নির্বাচন কমিশন আজ সোমবার জানিয়েছে, তিনি প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
রাশিয়ায় রবিবার জাতীয় সংসদের পাশাপাশি আঞ্চলিক আইনসভা ও গভর্নর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ইউক্রেনে সাড়ে চার বছরের যুদ্ধের পর দেশটির কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য এই নির্বাচনকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলাফলে দেখা গেছে, অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার পর ক্রেমলিন-সমর্থিত দল ও প্রার্থীরা সবখানেই জয় পেয়েছেন।
অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিনিময়ে পুতিনের কাছ থেকে চেচনিয়াকে নিজের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মতো পরিচালনার ব্যাপক স্বাধীনতা পেয়েছেন কাদিরভ। ১৯৯০-এর দশকে এই অঞ্চলে ইসলামপন্থী ও রুশবিরোধী বিদ্রোহ চলেছিল।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চেচনিয়ায় কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২০২১ সালে পাওয়া ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোটের তুলনায় এবার তার ভোট সামান্য বেড়েছে। ছোট এই পার্বত্য অঞ্চলে নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে অতীতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
পশ্চিমা দেশগুলোর মদদপুষ্ট তার শাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে কাদিরভ এ ধরনের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি নিয়মিত পুতিনের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত আনুগত্যের কথা জোর দিয়ে বলেন। ইউক্রেন নিয়েও তিনি কঠোর অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। তার দাবি, ২০২২ সাল থেকে সেখানে চেচেন বাহিনী যুদ্ধ করছে।
নিজের বাবা আখমাত কাদিরভ ২০০৪ সালে বিদ্রোহীদের বোমা হামলায় নিহত হওয়ার পর ক্ষমতায় উত্থান ঘটে রমজান কাদিরভের। ওই বিদ্রোহীরা আখমাতকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাদিরভের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে সাংবাদিক ও সমকামীদের বিরুদ্ধেও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তবে কাদিরভ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।




