জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ব্রাজিলের বৈশ্বিক রোডম্যাপ প্রকাশ

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বন উজাড় বন্ধে বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ব্রাজিল। জাতিসংঘের জলবায়ু কার্যক্রমে দেশটির সভাপতিত্বের মেয়াদ শেষে এবং তুরস্কে আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনের আগে এ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। জীবাশ্মজ্বালানি থেকে সরে আসা ও বন রক্ষায় এটিই বিশ্বের প্রথম সুনির্দিষ্ট বৈশ্বিক রোডম্যাপ বলে জানিয়েছে ব্রাজিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কপ-৩০ সম্মেলনের সভাপতি আন্দ্রে কোরেয়া দো লাগো বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। এ কাজে শুধু পরিবেশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, অর্থ, অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করতে হবে।
জ্বালানি রূপান্তরের পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে দেশগুলোকে নিজস্ব জ্বালানি ব্যবস্থার মূল্যায়ন, আইন শক্তিশালী করা এবং জাতীয় পরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩১ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি দূর করার কথা বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনক্ষমতা ৫ হাজার ১৪৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। তবে এ সক্ষমতার বড় অংশ নতুন বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাচ্ছে না। তাই সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছে ব্রাজিল।
পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে দেশত্যাগে সহায়তা, আর্জেন্টাইন দূতকে তলব ব্রাজিলের
৩১ অক্টোবর ২০২৬
বন রক্ষার জন্যও অর্থায়ন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির হিসাবে, ২০২৩ সালে এ খাতে ৮৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক অর্থায়ন ৩০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রাজিলের ‘ট্রপিক্যাল ফরেস্টস ফরএভার ফ্যাসিলিটি’ তহবিলে এরই মধ্যে প্রায় ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে।
আগামী ৯ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে কপ-৩১ সম্মেলন। সেখানে নতুন প্রতিশ্রুতির বদলে আগের চুক্তিগুলোর বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তুরস্কের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুরাত কুরুম।




