পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে দেশত্যাগে সহায়তা, আর্জেন্টাইন দূতকে তলব ব্রাজিলের

নির্বাচনে হারার পর প্লেন থেকে নামছেন ব্রাজিলের ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর আর্জেন্টিনা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার ঘটনায় দেশটির শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে ব্রাজিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ব্রাজিল সরকারের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর্জেন্টিনার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মারিয়া এমিলিয়া কোর্তেসকে তলব করে।
তবে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কিরনো বলেছেন, বলসোনারোর আর্জেন্টিনায় যাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ব্রাজিলের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুরোধ পাননি তারা।
গত রবিবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান বলসোনারো। এরপর মঙ্গলবার রাতে তিনি আর্জেন্টিনায় যান। সেখান থেকে ইকুয়েডর হয়ে একটি ভাড়া করা উড়োজাহাজে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছান তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে।
নির্বাচনের পর বলসোনারোকে তার পাসপোর্ট জমা দিতে এবং চলমান একটি মামলার কারণে ব্রাজিলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
‘ব্যাংকো মাস্টার কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিত একটি অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্তে তার নাম রয়েছে। তদন্তকারীরা ব্যাংকো মাস্টারের সাবেক প্রধান দানিয়েল ভোরকারোর কাছ থেকে বলসোনারোর পাওয়া কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি অর্থ লেনদেন খতিয়ে দেখছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরিতে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
ফ্লাভিও বলসোনারো কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করে তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বলসোনারোকে ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন লুলা। ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বলসোনারোর লিবারেল পার্টি ফল মেনে নিলেও তিনি এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি। কোনো প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তিনি। মায়ামিতে পৌঁছে নিজেকে ব্রাজিলের ‘বৈধ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ বলেও দাবি করেছেন।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইকে দেশ ছাড়তে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলসোনারো। তবে কী ধরনের সহায়তা পেয়েছেন, তা জানাননি। মাইলেইর একজন মুখপাত্র বলসোনারোর দেশত্যাগকে ‘উদ্ধার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ঘটনাটি লুলা ও মাইলেই সরকারের মধ্যে আগে থেকেই চলা কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা




