ভোটে হেরে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালালেন ফ্লাভিও বলসোনারো

ফ্লাভিও বলসোনারো। ছবি: রয়টার্স
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। দেশত্যাগে সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্রাজিল ছাড়েন তিনি।
এর আগে দেশটির সুপ্রিম ফেডারেল কোর্টের বিচারক আলেকজান্দ্রে দে মোরাইস দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই ফ্লাভিও সীমান্ত অতিক্রম করেন। এর পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বলসোনারো এবং তার পরিবারকে পূর্ণ মার্কিন ভিসা ও রাজনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করা হবে।
ব্রাজিলিয়ান পুলিশের চোখ এড়িয়ে সিনেটর ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ সাজানো। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তিনি প্রথমে স্থলপথে আর্জেন্টিনা সীমান্তে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে উড়াল দেন।
আদালত নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে পাসপোর্ট সমর্পণ না করায় ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ এরই মধ্যে তার ব্রাজিলের পাসপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে এবং আদালত অবমাননার জন্য মোরাইসের এজলাসে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ২৭ অক্টোবর বিকেলে ফ্লোরিডায় নামার পর তাকে স্বাগত জানান তার ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো, যিনি নিজেও আগে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
ফ্লাভিও বলসোনারোর হঠাৎ এ দেশত্যাগের পেছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে চলমান দুটি বড় ধরনের ফৌজদারি তদন্ত। এগুলো হল অর্থ পাচার ও অবৈধ লেনদেন এবং আইএনএসএস ও জুয়ার অ্যাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ফ্লাভিওকে দ্রুত ভিসা দেওয়ায় ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে সংঘাতের মুখে পড়েছে। লুলার নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল সরকার মার্কিন সরকারের এ পদক্ষেপকে ‘ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থায় সরাসরি হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ফ্লাভিও শিবির থেকে দাবি করা হচ্ছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের অধীন ‘নির্বাসিত সরকার’ চালনার মাধ্যমে বিরোধী দল পরিচালনা করবেন।



