আড়ালে থেকেই লড়ছেন সিদ্দিকুর

দেশের গলফের ইতিহাসের তর্কাতীত সেরা সিদ্দিকুর রহমান। দুবারের এশিয়ান ট্যুর বিজয়ী অবশ্য অনেক দিন ধরে নেই আলোচনায়। বয়স বাড়লেও চেষ্টা জারি রেখেছেন। নিজের মতো করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে তিনি, সামনের লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। জাপানে হতে যাওয়া মর্যাদার আসরে জামাল হোসেন ও বাদল হোসেনকে নিয়ে জ্বলতে চান, দেশকে এনে দিতে চান সাফল্য।
২০১০ সালে ব্রুনাই ওপেন জিতে শুরু সিদ্দিকুরের জয়যাত্রা। একসময় কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের ক্যাডি নিজের চেষ্টায় হয়ে ওঠেন সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ। উত্তুঙ্গ ফর্মে তিন বছর পর দ্বিতীয় এশিয়ান ট্যুর শিরোপা জিতে নেন তিনি। ভারতের ‘হিরো ইন্ডিয়ান ওপেন’ জয়ে তাকে ঘিরে প্রত্যাশা বেড়ে যায় আরও। এক বছর পর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১৪ অলিম্পিক গেমসে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। এশিয়ান ট্যুরে জোড়া সাফল্য ও অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন তার আগ্রহ আর চেষ্টা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। এশিয়ান ট্যুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপিয়ান ট্যুরেও আলো ছড়িয়েছেন। শিরোপা না জিতলেও ভালো অবস্থানে থেকে অর্জন করেছেন আকর্ষণীয় অর্থ পুরস্কার।
তবে ২০১৩ সর্বশেষ মেজর শিরোপা জয়ের পর ছেদ পড়েছে ধারাবাহিকতায়, পড়ে গেছে ফর্মও। টানা ১২ বছর খেলার পর ২০২৩ সালে হারান এশিয়ান ট্যুরে খেলার যোগ্যতা। এখন অবশ্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুরে নিয়মিত খেলছেন। এ বছরই খেলেছেন আটটি টুর্নামেন্ট। কমবেশি আয়ও হচ্ছে। যদিও খেলায় অংশ নেওয়ার খরচের চেয়ে যা অনেক কম। তাই হাত দিতে হচ্ছে জমানো টাকায়।
চেষ্টা তারপরও থামাবেন না এশিয়ান ট্যুরে ফেরার নেশা। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুরের বর্তমান অর্ডার অব মেরিটে আছেন ১৪-তে। সেরা ১০-এ এলেই খুলবে এশিয়ান ট্যুরের দরজা। ট্রফি জিততে না পারলেও নিজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট— ‘আমি যখন সেরা ফর্মে ছিলাম, তখনকার চেয়ে এখন আমার নলেজ, টেকনিক, স্কিল, এক্সপেরিয়েন্স, সবকিছুই অনেক ভালো। এখন কিছু জেতাটা শুধুই সময়ের ব্যাপার। ইনশাআল্লাহ শিগগিরই দেখবেন। আমার সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টগুলোয় স্কোর যদি দেখেন, দেখবেন প্রত্যেক টুর্নামেন্টেই আমি আন্ডারে খেলছি।’
৪১ বছর বয়সী এ গলফার জানিয়েছেন কীভাবে এশিয়ান ট্যুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে, ‘এশিয়াতে প্রাইজমানি বেড়ে যাওয়ায় সারা বিশ্বের গলফাররা এখানে চলে আসছেন। ফলে আগের চেয়ে অনেক বেশি কম্পিটিটিভ হয়েছে। তারপরও এ বছরই এশিয়ান ট্যুরে ফেরার জোর সম্ভাবনা আছে। যদি নাও হয়, চেষ্টা থামবে না। যতদিন খেলাটা উপভোগ করব, চেষ্টা করেই যাব। এখনো বিশ্বাস করি, যেকোনো সময় সুদিন ফিরবে। দেশকে আবারও গর্বিত করতে পারব।’
দেশকে গর্বিত করার একটা সুযোগ এ মাসেই পাচ্ছেন। জাপানে এশিয়ান গেমসকে পাখির চোখ করে ১৫ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ড গিয়ে ৭ থেকে ১০ দিনের ট্রেনিং নিতে চাইছেন তিনি। এর জন্য প্রয়োজন ফেডারেশন ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতা— ‘এশিয়াডের আগে একটা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য থাইল্যান্ডে আমার ট্রেনারের কাছে যেতে পারি, তবে দেশের জন্য হয়তো ভালো কিছু বয়ে আনতে পারব। এক্ষেত্রে ফেডারেশনের সহযোগিতা পাওয়ার অপেক্ষা করছি।’
২০০৮ সালে পেশাদার গলফ শুরুর পর থেকেই সিদ্দিকুর ছুটছেন উপভোগের নেশায়, যা কিছু অর্জন, তার বড় অংশ চলে যায় দেশ-বিদেশে ঘুরে ঘুরে খেলে। বয়সের কারণেও থামাতে চান না। ৫০ পেরিয়ে এশিয়ান ট্যুর জয়ের উদাহরণ তো আছে পাশের দেশেই। ৫২ বছর বয়সে ট্রফি জিতেছিলেন ভারতের মুকেশ কুমার। তাই সিদ্দিকুরের কণ্ঠেও প্রত্যয়— ‘অবশ্যই ফিরব, একার যে লড়াই দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছি, সে লড়াইয়ে আরেকবার জিততে চাই।’





