উয়েফার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের’ অভিযোগ ফিফার

ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত ও বাতিল হওয়া পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা উয়েফার সঙ্গে কাদা ছোড়াছুড়িতে মেতেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা। উয়েফার সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ ও নথিপত্র তলবের জবাবে ফিফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ বা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি আমেরিকার বিভিন্ন আদালতে আইনি আবেদন করে ফিফার অন্দরমহলের নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ তলব করেছে উয়েফা। সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি হিসেবে এই নথিপত্র চেয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের এই সংস্থাটি। উয়েফার অভিযোগ, ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যই ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের অধীনে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক শেয়ার অত্যন্ত কম মূল্যে বিক্রির পাঁয়তারা করেছিলেন, যা এক প্রকার ‘অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনা’। তবে ফিফা এই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে আমেরিকার আদালতে পাল্টা আইনি নথিপত্র জমা দিয়েছে। ফিফার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, উয়েফার এই আবেদনগুলো আদতে কোনো সত্যিকারের আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং এগুলো কেবল মিডিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য ‘প্রেস রিলিজের মতো ব্যাপার’। সুইজারল্যান্ডে এ ধরনের কোনো ফৌজদারি কার্যধারাই অস্তিত্বশীল নয় এবং উয়েফার সেই আইনি এখতিয়ারও নেই বলে দাবি ফিফার।
ফিফার মতে, উয়েফার এই বিরোধিতার আসল কারণ আর্থিক ও ক্ষমতার আধিপত্য ধরে রাখা। বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন ও অনুন্নত দেশগুলোর ফুটবলাররা যেন ইউরোপীয় দলগুলোর সঙ্গে সমানে লড়তে পারে- সেটা নাকি উয়েফা চায় না। তাছাড়া উয়েফার একচ্ছত্র বাজারে ভাগ বসানোও ঠেকাতে চায় ইউরোপীয় ক্লাবগুলো। এএফই প্রকল্পের মাধ্যমে অনুন্নত দেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রাপ্ত অর্থ ৫.৯ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ১৪.৭ মিলিয়নে উন্নীত করার লক্ষ্য ছিল, যা পরোক্ষভাবে উয়েফার আয় রোজগার কমিয়ে দিতে পারত। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট জোশুয়া কুশনার এবং তার প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নালের সঙ্গে ৪.২ বিলিয়ন ডলারের ওই বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে গত জুলাইয়ে প্রকল্পটি বাতিল করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। পরবর্তীতে কুশনারও এই রাজনৈতিক জটিলতা জড়িয়ে পড়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বর্তমানে আগামী মার্চে হতে যাওয়া ফিফা নির্বাচনের আগে এই ক্ষমতা লড়াই বিশ্ব ফুটবলকে আরও বিভক্ত করে তুলেছে।







