‘রক দ্য বেবি’ ফিরবে এনদ্রিকে!

বল জালে জড়াতেই ভোঁ দৌড়, এরপর দুই হাতে শিশুকে দোল খাওয়ানোর ভঙ্গি— ১৯৯৪ বিশ্বকাপে বেবেতোর এই আইকনিক উদযাপন ফুটবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যেটি ‘রক দ্য বেবি’ নামে পরিচিত। বিশ্বকাপ আবার ফিরেছে উত্তর আমেরিকায়। এবারও একই ভঙ্গিতে গোল উদযাপন হতে পারে বলে ধারণা বেবেতোর। তার বাজিটা ব্রাজিল ফরোয়ার্ড এনদ্রিককে নিয়ে।
১৯৯৪ সালে চতুর্থ বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছিল ব্রাজিল। সেলেসাওদের সাফল্যযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বেবেতো। রোমারিওর সঙ্গে জুটি বেঁধে আক্রমণে গতি দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের পথে করেছিলেন তিন গোল। তবে ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-২ গোলে জেতার ম্যাচের গোলটি স্মরণীয় হয়ে আছে বেবেতোর কাছে।
দুদিন আগেই তৃতীয় সন্তানের বাবা হয়েছিলেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ছেলের পৃথিবীতে আসার আনন্দ সেদিন প্রকাশ করেছিলেন ওই উদযাপনে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, তার ওই মুহূর্তের সঙ্গে এনদ্রিকের সম্পর্ক কী? প্রথমত তিনি ব্রাজিলিয়ান, এর ওপর বাবা হতে যাচ্ছেন তিনিও। সে কারণেই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার আনন্দের মধ্যে এনদ্রিক গোল করতে পারলে ‘রক দ্য বেবি’ আরেকবার বিশ্বমঞ্চে ফিরবে বলে মনে করছেন বেবেতো।
এনদ্রিকের স্ত্রী গাব্রিয়েলি মিরান্দার গর্ভে ছেলেসন্তান। তাদের প্রথম সন্তান জুলাই অথবা আগস্টে পৃথিবীর আলো দেখবে। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে থাকা এনদ্রিক গোল পেলে অনাগত সন্তানের জন্য কিছু একটা করতে চাইবেন— ফিফা ডটকমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেবেতোর বক্তব্য সে রকমই, ‘সব দিক থেকে আমি ওকে (এনদ্রিক) সমর্থন করি। আশা করছি, বিশ্বকাপে সে ভালো অবস্থানে থাকবে এবং গোল পাবে। যদি গোল করে, তাহলে অবশ্যই ওর শিশুসন্তান ও স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত। সর্বোপরি পরিবারই সবকিছু।’
সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমের মাঝপথে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে লিওঁতে খেলেছেন এনদ্রিক। ফরাসি লিগে আলো ছড়িয়ে জায়গা পেয়েছেন কার্লো আনচেলত্তির দলে। ১৯ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে প্রভাব বিস্তার করবে বলে বিশ্বাস বেবেতোর, ‘এনদ্রিক সবসময় দলে নিজের প্রভাব ফেলতে ও উদ্দীপনা আনতে জাগ্রত থাকে। সে বিশেষ প্রতিভাবান। কিছুদিন আগে দেখা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে, আমার কাছে এসেছিল, তাকে কিছু পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার।’
বিশ্বকাপে এনদ্রিকের জন্য গলা ফাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বেবেতো, ‘আমি ওকে উৎসাহ দেব, চাইব ও যেন ওর সর্বস্ব দিয়ে খেলে; কারণ ওর মধ্যে সত্যিকারের দৃঢ়তা আছে। ও কোনো কিছুতেই বিচলিত হয় না। আনচেলত্তিও স্বীকার করেন, এনদ্রিক ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বিশ্বকাপে।’
১৪ জুন মরক্কো ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ব্রাজিলের। ফুটবল মহাযজ্ঞে ধারাবাহিক ব্যর্থতা কাটিয়ে সাফল্য খুঁজতে সেলেসাওদের দায়িত্বে এবার আনচেলত্তি। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচের ছোঁয়ায় ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্ন ব্রাজিলিয়ানদের। এই স্বপ্নযাত্রায় এনদ্রিক রাখতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এরই মধ্যে ব্রাজিলের জার্সিতে ঝলক দেখিয়েছেন তিনি। এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার পালা।
আর এই মিশনে গোল পেলে ‘রক দ্য বেবি’র মতো কোনো উদযাপন করতেই পারেন এনদ্রিক!




