বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে স্পেন-মরক্কো দ্বন্দ্ব

সংগৃহীত ছবি
২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য ফিফা এখনো চূড়ান্ত ভেন্যুর নাম ঘোষণা করেনি। কিন্তু এর মধ্যেই মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা জানিয়েছেন বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে মরক্কোর বেনস্লিমানের গ্রাঁ স্তাদ হাসান-২-এ।
বুজনিকায় অনুষ্ঠিত অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টির এক অনুষ্ঠানে লেকজা বলেন, ‘আপনাদের যা জানা প্রয়োজন, তা হলো বেনস্লিমানের প্রদেশ ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের গৌরব অর্জন করবে।’
এমনকি ফাইনালে খেলার স্বপ্নও দেখছেন লেকজা। তার আশা ফাইনালে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও ফ্রান্স, ‘সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় মরক্কো ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি ফাইনাল হোক যাতে আমরা প্রতিশোধ নিতে পারি।’ তার এই মন্তব্যে উপস্থিত অতিথিরা করতালি দেন।
লেকজার বক্তব্যের গুরুত্বও কম নয়। কারণ ফিফা এখনো ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের স্টেডিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করেনি। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করবে ২০৩০ বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দক্ষিণ আমেরিকায় কয়েকটি উদ্যাপনমূলক ম্যাচও হবে।
মরক্কোর দাবি মূলত নির্মাণাধীন গ্রাঁ স্তাদ হাসান-২কে ঘিরে। কাসাব্লাঙ্কা ও রাবাতের মাঝামাঝি বেনস্লিমানে প্রদেশে তৈরি হচ্ছে বিশাল এই স্টেডিয়াম। ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার। এটি নির্মাণ শেষ হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর একটি হবে।
স্টেডিয়ামটির নকশাতেও রয়েছে বিশেষত্ব। মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী মৌসুমি উৎসবে ব্যবহৃত তাবুর আদলে এর নকশা করা হয়েছে। নির্মাণকাজ ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা। বিশ্বকাপ শুরু হতে তখনো তিন বছর বাকি থাকবে। ফলে বড় টুর্নামেন্টের আগে স্টেডিয়ামটি পরীক্ষা ও প্রস্তুত করার যথেষ্ট সময় পাবে মরক্কো।
লেকজা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করলেও বাস্তবতা হলো, ফিফা এখনো কোনো স্টেডিয়ামের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ফলে তার বক্তব্যকে চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে মরক্কোর আত্মবিশ্বাস এবং স্পেনের দাবির বিপরীতে তাদের চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। মরক্কো চাইছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি তাদের মাটিতে হোক। অন্যদিকে স্পেনও নিজেদের দেশে ফাইনাল আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী। তাদের সম্ভাব্য ভেন্যুর তালিকায় রয়েছে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও বার্সেলোনার স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু।



