শিরোপাও জিততে পারে মরক্কো!

ছবি: আগামীর সময়
২০২২ বিশ্বকাপে তাদের অবিশ্বাস্য যাত্রা মুগ্ধ করেছিল ফুটবলবিশ্বকে। অ্যাটলাস লায়ন্স মরক্কো সেবার ইতিহাস গড়ে পা রেখেছিল সেমিফাইনালে। সেই মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা চলছে এই আসরেও। শেষ ১৬-এর বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আশরাফ হাকিমির দল। আবারও তাই সেমির স্বপ্ন বুনছে তারা।
ব্রাজিলের সঙ্গে ‘সি’ গ্রুপে পড়েছিল মরক্কো। প্রথম ম্যাচেই তারা সেলেসাওদের রুখে দিয়েছিল ১-১ ব্যবধানে। ব্রাজিলের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও শেষ পর্যন্ত গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে পা রাখে তারা।
শেষ ৩২-এর নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ১৬-তে পা রাখে মরক্কো। এই রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক কানাডা। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে সাইবারির বদলি হয়ে নামা রাহিমির গোলে ৩-০ ব্যবধানে কানাডাকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে মরক্কো। এর আগে জোড়া গোল করেন আজ্জেদিন ওনাহি। দুটি গোলই করেন দ্বিতীয়ার্ধে।
কানাডাকে হারানোর এই ম্যাচে মরক্কো গড়েছে বেশ কিছু রেকর্ড। এবারের বিশ্বকাপে চারটি অ্যাসিস্ট করলেন ব্রাহিম দিয়াজ। বিশ্বকাপের এক আসরে চারটি বা তার বেশি অ্যাসিস্ট করা আফ্রিকার প্রথম ফুটবলার তিনি। আর মরক্কোর হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করার রেকর্ডটিও রিয়াল মাদ্রিদ তারকার।
সব মিলিয়ে অ্যাটলাস লায়ন্সরা অপরাজিত আছে ৩৪ ম্যাচে। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে চারটি নকআউট ম্যাচ জিতল তারা, যা আফ্রিকার বাকি সব দলের জয়ের সমান
বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে একাধিক গোল করা আফ্রিকার চতুর্থ ফুটবলার হলেন ওনাহি। ১৯৩৪ সালে মিসরের আবদেল রাহমান ফাওজি, ১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের রজার মিলার এবং ২০০২ সালে সেনেগালের হেনরি কামারা এই স্বাদ পেয়েছিলেন।
নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে চারটি নকআউট ম্যাচ জিতল তারা, যা আফ্রিকার বাকি সব দলের জয়ের সমান। নকআউটে একটি করে ম্যাচ জিততে পেরেছে ক্যামেরুন (১৯৯০), সেনেগাল (২০০২), ঘানা (২০১০) ও মিসর (২০২৬)।
এই বিশ্বকাপে শুধু নয়, সব মিলিয়ে অ্যাটলাস লায়ন্সরা অপরাজিত আছে ৩৪ ম্যাচে! হাকিমিদের এই অবিশ্বাস্য জয়যাত্রা দেখে অনেকেই বলছেন, মরক্কোও এই আসরে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার। ইতিহাস গড়ে হাকিমির হাতেও উঠতে পারে সোনালি ট্রফি, এমন আভাসও দিচ্ছে অনেকেই।
শেষ আট নিশ্চিত করার পর মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবিও বলছেন, তাদের স্বপ্ন শিরোপা জেতা, ‘যখন সবাই বলে মরক্কো সাফল্যের দাবিদার এবং বড় ফুটবল জাতি, তখন এটা আমাদের জন্য ভীষণ গর্বের বিষয়। আমরা এগিয়ে যেতে চাই, এখনই থামতে চাই না। আমার লক্ষ্য অবশ্যই শিরোপা জেতা।’
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর সামনে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ও বিধ্বংসী ফর্মে থাকা ফ্রান্স।




