যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আজ ইউরোপীয় দেয়াল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
টুর্নামেন্ট এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ভুলের কোনো অবকাশ নেই। হয় জয়, নয়তো বিদায়। নকআউট পর্বের এমনই এক ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান পরাশক্তি বেলজিয়াম এবং এ আসরে চমক দেখানো স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্ম’র নিজেদের প্রমাণ করার তাগিদ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও গতিময় ফুটবলের প্রদর্শনী। এটি শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, এটি দুই ভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল ঘরানার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের যুদ্ধ। এই ম্যাচ জিতে কোয়ার্টারে পা রাখবে কে?
বিশ্বকাপে দুই দলের পথচলা ছিল বেশ ভিন্নধর্মী। বেলজিয়াম তাদের গ্রুপ পর্বে কিছুটা ধুঁকে ধুঁকে এগোলেও নকআউটের আগে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম নকআউট পর্বের শুরুতেই বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল। সেনেগালের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে অতিরিক্ত সময়ের শেষভাগে পেনাল্টির গোলে ৩-২ ব্যবধানের জয় পেয়েছে ডি ব্রুইনারা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ পর্বে তাদের গতি আর কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল দিয়ে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেছে। শেষ ৩২-এ বসনিয়ার বিপক্ষেও ২-০ গোলের সহজ জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।
বেলজিয়াম চাইবে ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজিশন ধরে রেখে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে। কেভিন ডি ব্রুইনা ও ইউরি টিলেমানসের জুটি থ্রু-বলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করবে।
বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র খেলবে হাই-প্রেসিং ফুটবল। তারা বেলজিয়ামকে থিতু করার সময় দেবে না এবং বল কেড়ে নিয়েই পুলিসিচ ও টিমোথি ওয়েয়াহর গতি ব্যবহার করে কাউন্টার অ্যাটাকে যাবে।
এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে সাতবার। ছয়বারই জয় পেয়েছে বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্রের জয় একটিতে। বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হয়েছে দুবার। ১৯৩০ বিশ্বকাপে ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৪ বিশ্বকাপে সেই হারের শোধ নিয়েছে বেলজিয়াম।
২০১৪ বিশ্বকাপের সেই রাতটি এখনো হয়তো মার্কিন ফুটবল সমর্থকদের মনে গেঁথে আছে। গোলকিপার টিম হাওয়ার্ড একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করেছিলেন, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ডি ব্রুইনা ও রোমেলু লুকাকুর গোলে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে।
১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি এ দুই দল। পার্থক্য একটাই— এবার ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের ঘরের মাঠ সিয়াটলে, দর্শকরাও থাকবে তাদের পক্ষেই।
স্বাগতিক দর্শকদের প্রবল চাপের মুখে যে খেলতে হবে বেলজিয়ামকে, বুঝতে পারছেন বেলজিয়ামের ডোডি লুকেবাকিও, ‘এখন তারা পুরোই অন্যরকম একটি দল। বিশ্বকাপে সব কিছুই আলাদা। আর এবার দর্শকদের সমর্থনও পাবে। তাই লড়াইটা হবে ৫০-৫০।’
কাগজে-কলমে বেলজিয়ামই এই ম্যাচের ফেভারিট। তাদের স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা বেশি, বড় ম্যাচ খেলার অভ্যাসও বেশি। কিন্তু বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেলাটা মোটেও সহজ হবে না। সিয়াটলের গর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ফুটবলারদের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ২০১৪ সালের প্রতিশোধের প্রেরণা, এই ম্যাচ তাই বেলজিয়ামের কঠিন পরীক্ষাই নেবে।




