নরওয়ে কোচ
ইংল্যান্ডই ফেভারিট, আমরাও পিছিয়ে নেই

মায়ামিতে শনিবার রাতে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে নরওয়েজিয়ানরা। তবে সেমিফাইনালে ওঠার এই মহালড়াইয়ের আগে মনস্তাত্ত্বিক খেলায় থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছেন নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সলবাকেন।
আর্সেনালকে প্রিমিয়ার লিগ জেতানো অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ও ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডদের নিয়ে গড়া নরওয়ে দল এবার অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছে। মায়ামির সংবাদ সম্মেলনে সলবাকেন বলেন, ‘ইতিহাস আর শক্তির বিচারে ইংল্যান্ডই এই ম্যাচে ফেভারিট। তবে তারা যে খুব বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে, তা কিন্তু নয়। আমার মনে হয়, আমাদের চেয়ে ইংল্যান্ডের ওপরই প্রত্যাশার চাপটা অনেক বেশি থাকবে। অবশ্য মাঠে খেলা শুরু হলে ফুটবলাররা এসব চাপের কথা আর মাথায় রাখে না।’ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে ইরাক, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং সর্বশেষ ব্রাজিলকে হারিয়ে রূপকথা লিখেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এসেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৭ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন হালান্ড, অন্যদিকে ৬ গোল নিয়ে ঠিক পেছনেই আছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ফুটবলবিশ্বে এই ম্যাচটিকে কেইন বনাম হালান্ডের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ হিসেবে দেখা হলেও নরওয়ে কোচ একে দলগত লড়াই হিসেবেই দেখছেন। সলবাকেন বলেন, ‘এটি নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচ, কেইন বনাম হালান্ডের ব্যক্তিগত যুদ্ধ নয়। এটা সত্যি যে হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের এক নম্বর ম্যাচ উইনার এবং আর্লিং আমাদের সেরা অস্ত্র। কিন্তু শুধু তাদের দিকে আলো ফেললে দলের বাকি খেলোয়াড়দের অবমূল্যায়ন করা হবে। হালান্ডেরও গোল করার জন্য সতীর্থদের পাসের (সার্ভিস) প্রয়োজন হয়।’
শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় জ্যারেল কুয়ানসার লাল কার্ড দেখার পরও ১০ জনের দল নিয়ে যেভাবে ৩-২ ব্যবধানে টুখেলের দল জিতেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সলবাকেন।
তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ড দলে জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইনের মতো ম্যাচ উইনার আছে। উইংয়ে তাদের বিকল্পের অভাব নেই। মাঝমাঠে এলিয়ট অ্যান্ডারসন আর ডেক্লান রাইস দারুণ ভারসাম্য ধরে রাখছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে আমরা ৬৬ শতাংশের বেশি বল পজিশন ধরে রেখেছিলাম, তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তেমনটা আশা করছি না। মায়ামির গরম আবহাওয়া মাথায় রেখে আমরা হালকা অনুশীলন করেছি, যেন ম্যাচের দিন ছেলেরা পুরোপুরি ফ্রেশ থাকতে পারে।’






