Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
দুর্ঘটনা থেকে বাঁচালেন ক্যাপ্টেন আসিফ
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সরকার মানে একটা বড় এনজিও

সাঈদ জুবেরী
সাঈদ জুবেরী
agamir somoy
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১
সরকার মানে একটা বড় এনজিও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

লেখক, গবেষক ও আন্দোলনকর্মী ফরিদা আখতার সর্বশেষ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকর্মী ও সরকারের নীতিনির্ধারণী (উপদেষ্টা) পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং সংকট নিয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন আগামীর সময়ের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদ জুবেরী

আগামীর সময়: মাঠের একজন ‘অ্যাকটিভিস্ট’ এবং সরকারের একজন ‘পলিসি মেকার’— এই দুই ভূমিকার মধ্যে পার্থক্যগুলো কেমন দেখলেন?

ফরিদা আখতার: এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি প্রশ্ন। মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় আমাদের মূল ভূমিকা থাকে সরকারের নীতিগুলো পর্যালোচনা করা। কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখতাম, সরকারের নীতিগুলো তাদের উপকারে আসছে কি না। না এলে আমরা দাবি-দাওয়া তুলতাম। মাঠের কাজের দুটি ধরন আছে— একটি হলো ‘রিয়েল অ্যাকটিভিজম’, যেখানে সরকারের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বলা হয়— এটি এভাবে করা উচিত নয়। আরেকটি হলো সংগঠিত করা; অর্থাৎ যারা ভুক্তভোগী বা আসল অংশীজন, তাদেরকে সংগঠিত করে বিকল্প কিছু করে দেখানো যে, জনস্বার্থে এটি সম্ভব। আমরা এই দ্বিতীয় ধারার কাজে অভ্যস্ত ছিলাম। যখন আমি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে গেলাম, তখন আমার আগের অভিজ্ঞতাগুলো খুব কাজে লেগেছে।

আগামীর সময়: মন্ত্রণালয়ে গিয়ে কী ধরনের বাস্তবতা দেখলেন এবং আপনি কী পরিবর্তন আনার চেষ্টা করলেন?

ফরিদা আখতার: আমি দেখলাম উৎপাদন, দুধ বা মাংস বাড়ানোর অজুহাতে বিদেশ থেকে সব ক্রস বা সংকর জাত আমদানি করা হচ্ছে। এতে আমাদের দেশীয় জাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাছের ক্ষেত্রে ‘অ্যাকুয়াকালচার’ বা চাষের মাছ এখন ৬০ শতাংশের বেশি। কিন্তু সমস্যা হলো, এগুলোতে যে ফিড (খাবার) ব্যবহার করা হয়, তাতে অ্যান্টিবায়োটিকসহ এমন অনেক কিছুর মিশ্রণ থাকে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

যেহেতু এ বিষয়গুলো আমার মাথায় ছিল, আমি দেশীয় জাতের দিকে আবার আগ্রহ সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। ইতিবাচক দিক হলো, আমাদের গবেষকরাও এতে সায় দিলেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর— উভয় পক্ষই নীতিগতভাবে এটি গ্রহণে রাজি হয়েছিল। কাজটি পুরোপুরি শেষ করে আসতে পারিনি, তবে আমি এটি অন্তত বুঝিয়ে আসতে পেরেছি, বাইরে থেকে আমরা যে দাবিগুলো তুলতাম, সেগুলো আসলে সরকারের ভেতর থেকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

আগামীর সময়: নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘পলিটিক্যাল’, প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতাগুলো কেমন ছিল?

ফরিদা আখতার: আমলাদের একটি অংশ, যাদের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল। তবে আমি বলব না, সবাই বুঝেছে। আমি চলে আসার পর তারা এ নীতিগুলো ধরে রেখেছে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

গরিব মানুষের কথা সব জায়গায় এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ইলিশ যে ধরে, সেই জেলেও তো গরিব মানুষ। আপনি শহরের মধ্যবিত্ত, গরিব মানুষের প্রোটিনের দোহাই দিয়ে একটি দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক মাছের জাত নষ্ট করে দিতে পারেন না। তার মানে কি গরিব মানুষকে আপনি কৃত্রিম ইলিশ খাওয়াবেন, আর ধনীরা আসল ইলিশ খাবে? আমরা যদি ইলিশের প্রাকৃতিক সরবরাহ বাড়াতে পারি, তবে সবাই আসল ইলিশই খেতে পারবে

বাস্তবতা হলো, আমার বড় ধারণা হয়েছে— ‘সরকার মানে একটি বড় এনজিও।’ সরকার যে নিজের ইচ্ছামতো সব কাজ করে, তা নয়। একটি পলিটিক্যাল আবরণের আড়ালে তারাও বিশ্বব্যাংক বা এডিবির দিকে তাকিয়ে থাকে এবং তাদের নীতি গ্রহণ করে। প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কথা যদি বলি, আমি যখনই কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণের কথা বলেছি, তখনই সামনে এসেছে অজস্র আমলাতান্ত্রিক ধাপ— যেমন স্টেকহোল্ডার মিটিং করতে হবে, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে হবে ইত্যাদি। আমার নিজের সংগঠনে আমি আজ একটি সিদ্ধান্ত নিলে কালই সেটি বাস্তবায়ন করতে পারি; কিন্তু সরকারে সেটি সম্ভব হয় না। এই দীর্ঘসূত্রতার মধ্যেই অনেক সময় সরকার পরিবর্তন হয়ে যায় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আবার ‘ব্যাক টু জিরো’ বা শূন্যে ফিরে আসে।

আগামীর সময়: আপনি কোন কাজগুলো সফলভাবে শুরু বা সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

ফরিদা আখতার: আমি কিছু কাজ সফলভাবে করতে পেরেছি। যেমন স্থানীয় জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট (ছাগল) এবং দেশীয় গরুর গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান কর্তৃপক্ষ ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের উদ্যোগটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

এ ছাড়া আমরা পোলট্রি নীতিমালার মধ্যে একটি বড় পরিবর্তন এনেছি। আগে বাণিজ্যিক খামারের (ব্রয়লার বা লেয়ার) চাপে গ্রামীণ নারীদের দেশীয় মুরগি পালনে নিরুৎসাহিত করা হতো। আমরা পলিসির মধ্যেই ‘ফ্যামিলি ফার্ম’ বা পারিবারিক খামারে দেশীয় মুরগি রাখার ব্যবস্থা ঢুকিয়ে দিয়েছি। ফিডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফিডে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করার ব্যাপারেও আমরা কাজ করেছি, যা এখন কন্টিনিউ হচ্ছে এবং এ নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। আরেকটি বড় কাজ হলো, জলমহাল বা জলাশয়ের ইজারার বিষয়টি। আমরা জলমহাল নীতিমালাটিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম, ফলে এখন জলমহাল উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এটি দেখে আমার খুব ভালো লাগছে।

আগামীর সময়: আপনার সময়ে ডেনমার্কের সহায়তায় মিঠাপানিতে ইলিশ চাষের (আর্টিফিশিয়াল ইলিশ) একটি প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছিল, যা আপনারা গ্রহণ করেননি। শোনা যাচ্ছে, ভারত মিঠাপানিতে ইলিশের চাষে সফলতা পেয়েছে। এ প্রকল্পটির বিরোধিতা আপনি কেন করেছিলেন?

ফরিদা আখতার: বিষয়টি খুব পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার। ইলিশ একটি পরিযায়ী (Migratory) মাছ। ওটা সমুদ্র থেকে ডিম পাড়ার জন্য পদ্মা-মেঘনার মতো নদীতে আসে এবং এখানে বড় হয়। রুপালি রঙের এই মাছটির একটি বিশেষ স্বাদ ও ঐতিহ্য আছে। একে কৃত্রিমভাবে বা চাষের মাছ বানানোর চেষ্টা করাটা আমি মনে করি একধরনের অন্যায়। এতে মাছটির জেনেটিক বৈচিত্র্য নষ্ট হয়। ইলিশ বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। হাইব্রিড বা আর্টিফিশিয়াল উপায়ে এটি করলে এর জিআই মর্যাদা নষ্ট হবে। আমরা কেন কৃত্রিম ইলিশ করতে যাব? ভারত বা অন্য দেশ কী করল, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। ইলিশ বাংলাদেশের পরিচয়ের অংশ।

দ্বিতীয়ত, ওই প্রজেক্টটি বাংলাদেশে কোনো সঠিক প্রক্রিয়া মেনে আসেনি। তারা হঠাৎ করে জানাল, চাঁদপুরে এ প্রজেক্ট করবে। তারা টাকা দিচ্ছে বলেই যা ইচ্ছা প্রজেক্ট করতে পারে না, এটি দেশের নীতিগত প্রশ্নের বিষয়। আমি মনে করি, ইলিশকে ইলিশের মতো রাখতে হলে ড্রেজিং, দূষণরোধ, জাটকা রক্ষা এবং মা-মাছ রক্ষার নিষিদ্ধ সময়ে (ব্যান পিরিয়ড) জেলেদের সঠিক খাদ্যসহায়তা দেওয়া দরকার। এগুলো সামগ্রিকভাবে করলেই ইলিশের কোনো অভাব হবে না।

আগামীর সময়: কিন্তু সাধারণ মানুষ কম দামে ইলিশ খেতে পারত— এ যুক্তিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

ফরিদা আখতার: গরিব মানুষের কথা সব জায়গায় এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ইলিশ যে ধরে, সেই জেলেও তো গরিব মানুষ। আপনি শহরের মধ্যবিত্ত, গরিব মানুষের প্রোটিনের দোহাই দিয়ে একটি দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক মাছের জাত নষ্ট করে দিতে পারেন না। তার মানে কি গরিব মানুষকে আপনি কৃত্রিম ইলিশ খাওয়াবেন, আর ধনীরা আসল ইলিশ খাবে? এ বিভাজন কেন?

আমরা যদি ইলিশের প্রাকৃতিক সরবরাহ বাড়াতে পারি, তবে সবাই আসল ইলিশই খেতে পারবে। ঠিক একইভাবে গরুর মাংসের ক্ষেত্রেও বলা হয়— ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানি করলে গরিব মানুষ ৩০০ টাকায় খেতে পারবে। কিন্তু এতে আমাদের দেশীয় খামারিদের লাইভলিহুড বা জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাবে। সামগ্রিক দৃষ্টিতে না দেখলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। ইলিশ একটি মৌসুমি মাছ এবং এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। অন্য মাছের সরবরাহ বাড়ানোর তো প্রচুর সুযোগ আছে।

আগামীর সময়: মাঠপর্যায়ে কাজ করার সময় আপনার কাছে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে জরুরি মনে হয়েছিল, সরকারে গিয়ে কি তেমন কিছু করতে পেরেছেন?

ফরিদা আখতার: আমি ইচ্ছা করে আমার আগের সব কাজকে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে টেনে আনিনি, একটি দূরত্ব বজায় রেখেছি। তবে মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি আমি জানতাম। আমি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে থাকলেও দেখলাম কীটনাশকের কারণে মাছ ও হাওরাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

তখন আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মিলে একটি যৌথ উদ্যোগ নিই। হাওর এলাকায় বোরো ধানে যেন কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করা হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি আমার মাঠপর্যায়ের কাজেরই একটি সুফল ছিল। আমি নিজে জানতাম বলেই তৎকালীন কৃষি সচিব ও উপদেষ্টার সঙ্গে ডায়ালগ করা সম্ভব হয়েছিল এবং তারাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন।

আগামীর সময়: ডিম, ব্রয়লার মুরগি বা ফিডের বাজারে যে সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের ভেতরে বসে এর পেছনের মূল কারণ বা অদৃশ্য দেয়ালগুলো কি দেখলেন?

ফরিদা আখতার: আমরা বাইরে থেকে যাকে ‘সিন্ডিকেট’ বলি, ভেতরে তার রূপটি একটু ভিন্ন। ডিম বা এক দিনের বাচ্চার উৎপাদন এবং প্যারেন্ট স্টক নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি বড় কোম্পানি। এটি আসলে একটি ‘অলিগার্কিক্যাল সিস্টেম’। আর এর নিচে আছে হাজার হাজার ছোট-বড় খামারি, যারা এই বড় কোম্পানিগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ফলে দাম তারাই নির্ধারণ করে দেয়।

আবার এই কোম্পানিগুলোরও নিজস্ব কিছু সমস্যা আছে; যেমন ফিড আমদানির ট্যাক্স বা কমার্স মিনিস্ট্রির (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) সঙ্গে জটিলতা। সরকারে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, এটি এত স্ট্রেট-ফরোয়ার্ড বিষয় নয় যে, আমি বললেই কাল সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে। এটি একটি জটিল চক্র। আমরা হয়তো প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বললাম, ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বা ডিম আমদানি করলে স্থানীয় খামারিদের ক্ষতি হবে; কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আবার সাধারণ ভোক্তার সাপ্লাই ঠিক রাখতে ডিম আমদানির পক্ষে কথা বলল। এই ইন্টার-মিনিস্ট্রি বা আন্তঃমন্ত্রণালয় টানাপড়েন লেগেই থাকে। তবে আমার সময় যে পোলট্রি নীতিমালা করে আসতে পেরেছি, যেখানে ক্ষুদ্র খামারিদের স্বার্থরক্ষা ও বড়দের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সম্ভব হয়েছে। আসলে সিন্ডিকেট ভাঙার মূল ক্ষমতা বা টুলস কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে বেশি থাকে।

আগামীর সময়: আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন?

ফরিদা আখতার: আমাদের আইনের অভাব নেই, তবে সব আইন যুগোপযোগী নয়। আমাদের ফিশারিজ অ্যাক্টসহ দু-তিনটি আইন সংশোধন করতে হয়েছে। যেমন, আগে অনেক মৎস্য কর্মকর্তা আইনগত ক্ষমতার অভাবে অ্যাকশন নিতে পারতেন না। একটি উদাহরণ দিই, হাওরাঞ্চলে ইলেকট্রিক শক (বিদ্যুৎপ্রবাহ) দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছিল। যখন আমি কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নিতে বললাম, তারা বললেন— ‘ম্যাডাম, ইলেকট্রিক শকের বিষয়টি তো মৎস্য আইনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা নেই। ফলে আমরা ধরতে গেলে উল্টো তারা বড় গলায় আইনের ফাঁক দেখায়।’ পরে আমরা আইন সংশোধন করে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধের বিষয়টি যুক্ত করলাম।

বিজ্ঞানীরা কোনোমতে গবেষণা করলেও, সেই ফলাফল খামারি বা মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে ফান্ড বা টাকা দরকার, তা অধিদপ্তরের কাছে নেই। গবেষণাগুলো শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকছে

প্রাণিসম্পদের ক্ষেত্রেও অনেক আইন পূর্ণাঙ্গ নয়। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মন্ত্রণালয় থেকে যদি সঠিক দিকনির্দেশনা না যায়, তবে কাজ হবে না। এখানে কোনো তদবিরের সুযোগ নেই। আমাদের দেশে বিভিন্ন লবি গ্রুপ আছে, আমার কাছেও প্রচুর আসত। কিন্তু নীতিভ্রষ্ট হয়ে কোনো কাজ করিনি।

আগামীর সময়: কী ধরনের লবি গ্রুপ আসত? কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়া যাবে?

ফরিদা আখতার: যেমন ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমোদনের জন্য একটি বড় লবি গ্রুপ খুব তৎপর ছিল। আমি নিজে খুলনা অঞ্চল ভিজিট করে বাগদা ও গলদা চিংড়িচাষিদের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, ভেনামি চিংড়ি এলে আমাদের দেশীয় চিংড়ি খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। এটি চাষ করতে গিয়ে ভারত থেকে পোনা আনতে হবে এবং প্রচুর রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে, যা পরিবেশ দূষিত করবে। ওই লবি গ্রুপটি আমার সঙ্গে মিটিং করেছে, খুবই ভালো ব্যবহার করেছে; কিন্তু দেশের স্বার্থে আমি তাদের সে প্রস্তাব অনুমোদন দিইনি। দুঃখজনক হলো, আমি চলে আসার পর সেই লবি গ্রুপটি আবার তৎপর হয়ে উঠেছে এবং হয়তো তাদের কাজ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আমাদের আমলাদের বা সচিবদের একটি অংশকে দেখা যেত প্রকল্প দেখার নামে বিদেশ সফরে যেতেন। এ সুযোগগুলো তারা নেওয়ার চেষ্টা করেন।

আগামীর সময়: আমাদের বিএফআরআই বা বিএলআরআইয়ের মতো সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফল খামারিদের কোনো কাজে আসে না কেন?

ফরিদা আখতার: আমাদের দেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অত্যন্ত ভালো ও আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানী আছেন। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, গবেষণায় বাজেট বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা কোনোমতে গবেষণা করলেও, সেই ফলাফল খামারি বা মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে ফান্ড বা টাকা দরকার, তা অধিদপ্তরের কাছে নেই। গবেষণাগুলো শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকছে। বিজ্ঞানীদের ক্যারিয়ার বা পাবলিকেশনের মূল্যায়নের কোনো সঠিক সিস্টেম নেই।

এখানে আমলাতন্ত্র এবং রাজনীতি— দু-ই ঢুকে গেছে। গবেষণার ক্ষেত্রে তো দলীয় রাজনীতি থাকা উচিত নয়, যোগ্যতার মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

আগামীর সময়: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির কারণে ক্ষতিকর খাদ্য বা প্রযুক্তি দেশে প্রবেশের যে চাপ থাকে, সরকারের ভেতর থেকে দেশীয় স্বার্থে তা সামাল দেওয়া কতটা কঠিন? যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আপনার সময় অনেক আলোচনা হয়েছিল।

ফরিদা আখতার: এটি একটি বড় লড়াই। আমাদের সময় যখন আমদানি নীতি ফাইনাল করা হচ্ছিল, তখন বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে আমার অনেক আলোচনা হয়েছে। আমরা পরিষ্কার বলেছি, মাংস আমদানি করলে আমাদের দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাই আমরা মাংস আমদানি করব না। তখন বলা হয়, আমরা যদি সরাসরি বাধা দিই, তবে তা ডব্লিউটিওয়ের নীতি ভঙ্গ করবে। ফলে আমাদের শুধু ট্যারিফ ব্যারিয়ার নয়, নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।

আমরা শর্ত দিয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশ থেকে মাংস এলে তাদের দেশের টেস্ট ফ্যাসিলিটির পাশাপাশি বাংলাদেশে আসার পরও আমাদের ল্যাবরেটরিতে আবার পরীক্ষা করা হবে। কারণ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসার পর মাংসের মান এক নাও থাকতে পারে। আমাদের ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ (WOAH) সার্টিফাইড ল্যাবরেটরি আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ এমন থাকে যে, তারা আমাদের এ পরীক্ষা করার অধিকার দিতে চায় না এবং একে বাণিজ্যে বাধা হিসেবে দেখাতে চায়।

অনুরূপভাবে, ফিশারিজের ক্ষেত্রেও একটি বড় সমস্যা চলছে। সাগর বা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময় আমরা জেলেদের যে খাদ্যসহায়তা বা ভিজিএফ দিই, আন্তর্জাতিক মহল ওটাকে ‘সাবসিডি’ (ভর্তুকি) হিসেবে গণ্য করে। ডব্লিউটিওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট থ্রেশহোল্ডের (লিমিট) ওপরে গেলে সাবসিডি দেওয়া যায় না। আমরা আমাদের গরিব জেলেদের যে সামান্য খাদ্যসহায়তা দিই, আন্তর্জাতিক চুক্তির মারপ্যাঁচে তাও বন্ধের চেষ্টা করা হয়। এ টেবিলগুলোতে নেগোসিয়েশন করা অত্যন্ত কঠিন।

ফরিদা আখতারসরকারএনজিওসাক্ষাৎকার
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ১২ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    নরওয়ে
    ০
    ইংল্যান্ড
    ০
    ১২ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৭:০০ টা
    আর্জেন্টিনা
    ০
    সুইজারল্যান্ড
    ০
    advertisement
    advertisement
    সুপার-সাব মেরিনোর গোলে সেমিফাইনালে স্পেন

    সুপার-সাব মেরিনোর গোলে সেমিফাইনালে স্পেন

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০০:১২

    গিট্টু, বাঘা, বাউল, পারুলদের সঙ্গে মুস্তাফা মনোয়ার স্মরণ

    গিট্টু, বাঘা, বাউল, পারুলদের সঙ্গে মুস্তাফা মনোয়ার স্মরণ

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০০:১৪

    স্কালোনির কি মনে আছে পোজ্জোর রেকর্ড!

    স্কালোনির কি মনে আছে পোজ্জোর রেকর্ড!

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৭

    রাশিয়াকে রুখতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ৪ সিনেটরের সমঝোতা

    রাশিয়াকে রুখতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ৪ সিনেটরের সমঝোতা

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৮

    আরও ভয়ংকর বর্ষার মুখোমুখি কক্সবাজার

    আরও ভয়ংকর বর্ষার মুখোমুখি কক্সবাজার

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:২০

    দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা, নিহত ২

    দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা, নিহত ২

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২

    ঢাকাগামী স্লিপার বাসে ৯২ হাজার ইয়াবা

    ঢাকাগামী স্লিপার বাসে ৯২ হাজার ইয়াবা

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৯

    ‘একদিন একরাইত পেটে দানা পড়ল না’

    ‘একদিন একরাইত পেটে দানা পড়ল না’

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯

    সীমান্তে অনুপ্রবেশ, মিয়ানমারের ৮ নাগরিক আটক

    সীমান্তে অনুপ্রবেশ, মিয়ানমারের ৮ নাগরিক আটক

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২

    বেলুচিস্তানে ৭ দিনে নিহত ৭৫ সন্ত্রাসী

    বেলুচিস্তানে ৭ দিনে নিহত ৭৫ সন্ত্রাসী

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৭

    ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইয়েমেনজুড়ে বিক্ষোভ

    ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইয়েমেনজুড়ে বিক্ষোভ

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:২০

    ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক

    ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১১

    সস্তা গল্প বানালে দর্শক বুঝে ফেলে

    সস্তা গল্প বানালে দর্শক বুঝে ফেলে

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪

    জন্মদিনের উপহার পেয়ে...

    জন্মদিনের উপহার পেয়ে...

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৩

    জনসভায় প্রাণহানি আমাকে তাড়া করে বেড়ায়

    জনসভায় প্রাণহানি আমাকে তাড়া করে বেড়ায়

    ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪

    advertiseadvertise