বেলুচিস্তানে ৭ দিনে নিহত ৭৫ সন্ত্রাসী

বেলুচিস্তানের একটি পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে আকাশ ও স্থলপথে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
গতকাল শুক্রবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বুগতি বলছিলেন, মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলার পর ‘অপারেশন শাবান’ সফলভাবে চলছে।
তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৯ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ৫ জুলাই থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নিহত হয় মোট ৭৫ জন সন্ত্রাসী।
বুগতি উল্লেখ করেন, শুক্রবার বেলুচিস্তানের কাচহার এলাকার জেহরি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। সেই সন্ত্রাসী হামলাও নস্যাৎ করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্তব্য করেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে একাধিক বড় সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ‘একক ও যৌথ সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী রাওয়ালপিন্ডি সফরের এক দিন আগে নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছিল, ৫ জুলাই থেকে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও পরবর্তী অভিযানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে তিনটি বড় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫ জুলাই কোয়েটার উপকণ্ঠে সশস্ত্র হামলা, ৬ জুলাই জিয়ারাত এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে হামলা এবং বুধবার বেলার কাছে সেনাবাহিনীর একটি বহরে হামলা।
ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে এবং সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীরা ছাড় পাবে না। তিনি এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করছিলেন। তার দাবি, পাকিস্তানের সম্মান, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা মেনে নিতে না পারা ভারত ও তাদের সহযোগী শক্তিগুলো এসব হামলার সঙ্গে জড়িত।




