ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইয়েমেনজুড়ে বিক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠানে কোটি মানুষের অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করে দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে ইয়েমেনের জনগণ।
শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে এসে সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের উসকানি বা উত্তেজনাপূর্ণ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তারা প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের প্রধান প্রধান শহর ও প্রদেশে লাখো মানুষ সমাবেশ করে ইরানের প্রতি তাদের সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা লঙ্ঘন মেনে নেওয়া হবে না। ওয়াশিংটনের একতরফা সিদ্ধান্ত ও আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধেও ইয়েমেনের জনগণ অবস্থান নেবে বলে জানানো হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা ইরানি জনগণের ঐক্য ও সংহতির প্রশংসা করেন। টানা এক সপ্তাহ ধরে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা ও বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে তারা ঐতিহাসিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।
ইয়েমেনি বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে, শত্রুদের সব ষড়যন্ত্রের মুখে মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ।
সমাবেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়। বক্তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘যৌথ প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ গড়ে তোলার নীতিতে অটল থাকার অঙ্গীকার করেন।
বিক্ষোভ শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান, ইরাক ও ইয়েমেনের মুক্তিকামী ও প্রতিরোধী দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় ও সহযোগিতা বজায় রাখা সময়ের দাবি। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী জনগণের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ইয়েমেন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তারা জানান।
বিবৃতিতে সৌদি-মার্কিন জোটের সমালোচনা করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ইয়েমেনি প্রতিনিধিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের ওপর আরোপিত অবরোধ আর মেনে নেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইয়েমেন প্রস্তুত বলেও তারা দাবি করেন।
তারা হুঁশিয়ারি দেন, দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন বা যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের চেষ্টা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।




