অঘটনের বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের মাঠ এবং মাঠের বাইরে এমন সব ঘটনা ঘটে, যার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। এমনই কিছু অঘটন নিয়ে লিখেছেন মাহমুদ নেওয়াজ জয়
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইরাকি তারকা আইমেন হুসেইনকে শিকাগোর ও'হেয়ার বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বসিয়ে রাখা হয়েছিল সাত ঘণ্টা। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান, প্রথম সোমালি হিসেবে বিশ্বকাপে বাঁশি বাজানোর কথা যার— তাকে সীমান্তেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ডালাসে মিসর দলের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়া সমর্থকদের মধ্যে হঠাৎ ঢুকে পড়ে স্থানীয় পুলিশ, ধস্তাধস্তি বাধে সেখানেই।
নিউ ইয়র্কে ঘটে যাওয়া অঘটনটা আবার একেবারে আলাদা জাতের। নিকস দল এনবিএ ফাইনাল জেতার রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ শেষ হতেই দর্শক বহনকারী শাটল বাসের ওপর হামলে পড়েন উল্লসিত নিকস সমর্থকরা। চালকরা ৯টি বাস ফেলে পালিয়ে যান, ৫টি ভাঙচুর হয়, ১টিতে ধরে আগুন।
এবার খেলার মাঠের দিকে চোখ ফেরাই। জোনাথান তাহ্র হেডারটা জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জার্মান বেঞ্চ লাফিয়ে উঠেছিল। তারপর রেফারি জালাল জায়েদের হাত উঠল মনিটরের দিকে। মিনিট কয়েক পর গোল বাতিল— প্যারাগুয়ে গোলকিপার ফাউলের অভিযোগ। সেনেগালের বেলায় প্রায় একই ধাক্কা, তবে সময়টা আরও নিষ্ঠুর—অতিরিক্ত সময়ের ইনজুরি টাইমে ভিএআরের পেনাল্টি, বিদায় ৩-২ ব্যবধানে। এ ধরনের অঘটন বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাঁটলেই মিলবে ভূরি ভূরি নজির। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার সেই হাত দিয়ে করা গোলটার কথাই ধরা যাক— কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বল হাতে ঠেলে জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি; রেফারি ধরতেই পারেননি। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে রেফারি গ্রাহাম পোল একজন খেলোয়াড়কে তিনটি হলুদ কার্ড দেখিয়ে ফেলেন, লাল দেখানোর আগেই। ২০১৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার হুয়ান কামিলোর কুখ্যাত সেই ট্যাকলের কথাও বলা যায়। এতে মেরুদণ্ডে চিড় ধরে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে হয় নেইমারকে।




