থালাপতি বিজয়
জনসভায় প্রাণহানি আমাকে তাড়া করে বেড়ায়

থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর বা ‘থালাপতি বিজয়’ রাজনীতিতে নাম লেখানোর মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে চমকে দিয়েছেন। তবে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় একটি জনসভায় অংশ নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে নারী ও শিশুসহ ৪১ জন প্রাণ হারান। বিজয়কে একনজর দেখতে জড়ো হওয়া মানুষের অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়িতেই ঘটে সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
এ ঘটনার পর প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন বিজয় ও তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে)। দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে নীরব থাকায় তাকে নিয়ে নানা প্রশ্নও ওঠে। তবে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে শুক্রবার প্রথমবারের মতো কারুর সফরে যান বিজয়।
দুর্ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনা। আজও সেই স্মৃতি আমাকে তাড়া করে বেড়ায়।’
এ সময় তিনি সেই সময়ের পুলিশ প্রশাসন ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন ডিএমকে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। বিজয়ের অভিযোগ, তিনি পুলিশের ওপর আস্থা রেখেই জনসভায় প্রবেশ করেছিলেন।
বিজয় বলেন, আমি যখন কারুরে পৌঁছাই, তখন চাইলে পুলিশ আমাকে থামাতে পারত। তারা সতর্ক করতে পারত যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমনকি জনসভা বাতিল করার ক্ষমতাও তাদের ছিল। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং আমাকে ভেতরে নিয়ে গেছে। আমি তাদের বিশ্বাস করেছিলাম।
এরপর প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘এই ঘটনার জন্য আসলে দায়ী কে? কার হাত ছিল?’ তার বক্তব্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন ও ডিএমকের প্রতি ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।
কালো পোশাক পরে বক্তব্য দেওয়া বিজয় সেই সময় নিজের নীরবতা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে নিয়ে উপহাস করেছেন। যখন আমি ভেঙে পড়েছিলাম, তখন বলা হয়েছিল আমি নাকি লুকিয়ে আছি।’
বিজয়ের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ডিএমকে ও পুলিশের একটি অংশ এই ঘটনা ঘিরে ‘ষড়যন্ত্র’ করেছিল। তার প্রশ্ন, ‘পুলিশ কি পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করেছিল? অথচ সব দায় আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’
কারুর ট্র্যাজেডিতে নিহত ৪১ পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তামিলনাড়ু সরকার। তবে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয় ডিএমকে। তাদের দাবি ছিল, এতে চলমান তদন্তে সাক্ষীদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
পরে মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে তাতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং নিয়োগপত্র বিতরণের অনুমতি দেয়। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এসব নিয়োগ সাময়িক হিসেবে গণ্য হবে।




