মিউনিখের হারের ক্ষতে প্রলেপ দিতে চাই

স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণ বলা হয় পেদ্রিকে। ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের দ্যুতিতে ২০২৪ সালের ইউরো জিতেছে স্পেন। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন স্প্যানিশ দৈনিক ‘এএস’কে। তুলে ধরা হলো এর চুম্বক অংশ
প্রশ্ন: এবারের বিশ্বকাপে তো হাড্ডাহাড্ডি খেলা হচ্ছে সব ম্যাচে। কেপ ভার্দের মতো দলও রুখে দিয়েছিল আপনাদের।
পেদ্রি: হ্যাঁ, এবারের বিশ্বকাপটা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার। কাগজে-কলমে ফেভারিট হিসেবে শুরু করা অনেক দলই বাদ পড়েছে। আমি কেপ ভার্দেকে অভিনন্দন জানাতে চাই। দারুণ বিশ্বকাপ কাটিয়েছে তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় তারা একটি ম্যাচও হারেনি।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপে কোন খেলোয়াড় আপনার হৃদয়ে প্রথম দাগ কেটেছিলেন?
পেদ্রি: আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের কথা। তখন আমার বয়স ছিল আট বছর। আমার কিছু ম্যাচের কথা মনে আছে, বিশেষ করে ফাইনাল। আর খেলোয়াড়ের কথা বলতে গেলে আমি ইনিয়েস্তার নাম নেব। খুব ছোটবেলা থেকেই আমি তাকে অনুসরণ করতাম। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালে তার সেই গোলটি আমাদের সবাইকে আনন্দে ভাসিয়েছিল। আমি তাকে আজীবন মনে রাখব।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচগুলো কেমন হয়, তা আপনার ভালোই জানা। কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকে আপনারা কী শিখেছেন?
পেদ্রি: সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, ম্যাচের ছোট ছোট খুঁটিনাটি বিষয়গুলো। একটি ম্যাচে এমন অনেক ছোট বিষয় থাকে, যা বিশাল ব্যবধান গড়ে দেয়। একটি সাধারণ ভুল আপনাকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে পারে, বিশ্বকাপের মঞ্চ এমনই। আপনাকে ৯০ মিনিট জুড়েই মনোযোগী থাকতে হবে। কারণ খেলা যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।
প্রশ্ন: ‘ট্রান্সফার মার্কেট’-এর হিসাব অনুযায়ী, স্পেন-পর্তুগালের স্কোয়াডের সম্মিলিত বাজারমূল্য ২ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ের জন্য এটি কি একটু বেশিই বড় ম্যাচ হয়ে গেল না?
পেদ্রি: এটা সত্যি যে আমরা দুটি দলই শীর্ষ সারির আর দুদলই বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে চায়। দুটি দলই ফুটবলের পরাশক্তি, আমার মনে হয় লড়াইটা খুব কঠিন হবে। তবে আমরা যেকোনো মূল্যে পরের রাউন্ডে যেতে চাই।
প্রশ্ন: মিউনিখে নেশনস লিগের সেই ফাইনালের পর আবার মুখোমুখি হচ্ছেন পর্তুগালের। সেই ম্যাচের ভিডিও কি আবার দেখেছেন?
পেদ্রি: না, এখনো দেখা হয়নি। তবে আমরা এখন কোচ ও সহকারী কোচদের সঙ্গে বসে এটি বিশ্লেষণ করব। আমরা দেখব কোথায় আমাদের সংশোধন দরকার, কোন জায়গাগুলোয় আমাদের উন্নতি হয়েছে এবং কোথায় আরও উন্নতি করতে হবে। আর আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা সেই ফাইনালটি হেরেছিলাম। বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে চাই।
প্রশ্ন: মাঠে পেদ্রি-ভিতিনিয়ার লড়াই নিয়ে অনেক আলোচনা হবে। তার কোন গুণটি নিজের খেলায় দেখতে চাইবেন?
পেদ্রি: ভিতিনিয়া একদম বিশ্বমানের। বিশেষ করে বল নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ম্যাচের গতি নির্ধারণ করায় সে অনন্য। আমি যখনই তার বিপক্ষে খেলেছি, তার দৌড়ানোর ক্ষমতা দেখে অবাক হয়েছি। সে কখনোই এক জায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে থাকে না। সে সবসময় ফাঁকায় থাকা সতীর্থকে পাস বাড়ায়। যেমনটা আমি বললাম, ও সত্যিই সেরা। বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের একজন।
প্রশ্ন: কিছু ম্যাচে আপনিও ১৪ কিলোমিটারের বেশি পথ দৌড়েছেন?
পেদ্রি: (হেসে) হ্যাঁ, সবসময়ই। আমার বাবা আমাকে একটি কথা বলেছিলেন, যদি কোনোদিন দিনটি তোমার না হয় বা তুমি ভালো খেলতে না পারো, তবে অন্তত দলের জন্য দৌড়াও এবং পরিশ্রম করো। আমি সবসময় এই নীতি মেনেই চলি।
প্রশ্ন: দেখা যায় সবচেয়ে বেশি পাস আপনিই বাড়িয়েছেন। আবার একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বল কেড়ে নেওয়া খেলোয়াড়টিও আপনি।
পেদ্রি: আমি খেলার সব দিকই সামলানোর চেষ্টা করি। দল কী চাইছে, আমি তার ওপর মনোযোগ দিই। শুধু সুন্দর খেলা তৈরি করাই আমার একমাত্র কাজ নয়। সেই কাজটার জন্য লামিন (ইয়ামাল) আছে।
প্রশ্ন: আপনার ক্যারিয়ারের উত্থান তো বার্সেলোনায় মেসির সঙ্গেই হয়েছিল। আপনি কি তার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে চান?
পেদ্রি: এই স্বপ্নটি সত্যি হলে দারুণ হবে। এর অর্থ হবে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি। অবশ্যই মেসির সঙ্গে ফাইনাল খেলতেই চাই। মেসি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। আমি তার খেলা ভীষণ উপভোগ করছি। সে যখন প্রতিদিন আমার সঙ্গে অনুশীলন করত, তখনো আমি এটি উপভোগ করতাম। এই বয়সে ও যা করছে, এক কথায় অবিশ্বাস্য। আমার কাছে সে-ই ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।




