কুৎসিত ফুটবলে উত্তপ্ত ম্যাচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচ শুরুর সময় তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তপ্ত আবহাওয়ায় প্যারাগুয়ে বেছে নিয়েছিল ফ্রান্সকে উত্ত্যক্ত করার কৌশল। রক্ষণ জমাট রেখে অহেতুক ফাউল করে গেছেন তারা। কখনো জার্সি টেনে ধরেছেন তো কখনো চালিয়েছেন কনুই। তাতে মেজাজ হারিয়েছেন ফরাসি খেলোয়াড়রাও।
সবমিলিয়ে ম্যাচে ফাউলই হয়েছে ২৪টি। বিস্ময়করভাবে তারপরও প্যারাগুয়ের কোনো ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেননি। অথচ ফ্রান্সের তিনজন দেখেছেন হলুদ কার্ড। মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপ নয়, এটা যেন লাতিনের কোপা লিবার্তাদোরেসের কোনো খেলা! ম্যাচটা দেখে মেজাজ হারিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার জো হার্ট। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, ‘প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল একেবারেই লজ্জাজনক। তারা যদি আমার দলে থাকত, আমি নিজেই টেনে মাঠ থেকে বের করে দিতাম।’
আন্দ্রেস কুবাস বাজেভাবে আদ্রিয়েন রাবিওকে আঘাত করেও হলুদ কার্ড পাননি। হুয়ান জোসে ক্যাসেরেস তো এমবাপ্পেকে লাথি মেরেও পার পেয়ে যান। ম্যাচের শেষ দিকে প্যারাগুয়ের গাব্রিয়েল আভালোস যখন দায়ো উপামেকানোর পেটে কনুই দিয়ে আঘাত করেন, তখনো রেফারি নীরব ছিলেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মাইকাহ রিচার্ডস এমন ম্যাচ দেখে বলছিলেন, ‘এটি দেখা অস্বস্তিকর ছিল। প্যারাগুয়ে এর চেয়ে ভালো দল। রক্ষণভাগে তারা দারুণ খেলছিল। তাদের এ ধরনের নোংরা নাটকের দরকার ছিল না।’
এমন ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের ১-০ গোলের জয়টি এসেছে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। দেজেরি দুয়ে বক্সে ফাউলের শিকার হলেও শুরুতে পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি রেফারি। পরে ভিএআর মনিটরে দেখে পেনাল্টি দিলে কিলিয়ান এমবাপ্পের লক্ষ্যভেদে স্বস্তির জয় পায় ফ্রান্স। এমবাপ্পে পেনাল্টি নেওয়ার ঠিক আগে গুস্তাভো ভেলাজকুয়েজ স্পটের মাটি নষ্ট করার জন্য পা দিয়ে লাথি মারলেও চুপ ছিলেন রেফারি!
জার্মানির সাবেক মিডফিল্ডার থমাস হিটজলসপার্জার বিবিসি ওয়ানকে জানিয়েছেন নিজের ক্ষোভ, ‘আপনি যদি প্যারাগুয়ের সমর্থক হন, তাহলে দলটিকে আপনার যোদ্ধা মনে হবে। কিন্তু আপনি যদি ফরাসি বা সাধারণ দর্শক হন, তাহলে তাদের প্রতি আপনার শ্রদ্ধা থাকবে না। এটি লজ্জাজনক, নিকৃষ্ট।’
ফরাসি তারকা রায়ান চেরকি ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের এ ধরনের একটি ম্যাচ খেলা আমাদের জরুরি ছিল, যেন সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া যায় যে ফরাসি দল যেমন সুন্দর ফুটবল খেলে, তেমনি প্রয়োজনে যুদ্ধও করতে পারে।’
ম্যাচটিতে কেউ লাল কার্ড না পাওয়ায় ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম ভাগ্যবান মনে করছেন নিজেদের, ‘গুরুত্বপূর্ণ হলো, ম্যাচের শেষ দিকে কোনো বড় ধরনের ঝামেলা হয়নি আর আমরা নতুন কোনো কার্ড পাইনি। প্যারাগুয়ের সমালোচনা করতে চাই না। তবে অনেক বাজে মন্তব্য এসেছে তাদের ডাগআউট থেকে।’ তিনি প্রশংসা করেন এমবাপ্পেরও, ‘প্রথম দিন থেকেই বলেছি কিলিয়ান আদর্শ নেতা হয়ে উঠেছে। সে মাঠে তার সেরাটা ঢেলে দিয়েছে। মাঠের খেলোয়াড় হিসেবে সে তো অসাধারণ বটেই, পাশাপাশি সে যখন কথা বলে, তখন পুরো দলের প্রতিনিধি হয়েই কথা বলে।’




