ম্যাচটা শুধুই রোনালদো ইয়ামালের নয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আইবেরিয়ান উপকূলে দুই প্রতিবেশী স্পেন আর পর্তুগালের সম্পর্কের রসায়নটা অদ্ভুত। তাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে, সম্প্রীতিও আছে, আবার দুই দেশের রাজারা মিলে নিজেরা চুক্তি করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার সম্পদ নিজেরা ভাগাভাগিও করে নিয়েছেন, ওই ভুখণ্ডের মানুষদের অজান্তেই! এই দুই দেশে রাজা-রানীদের পৃষ্ঠপোষকতায় নাবিকরা বিশ্বের বিভিন্ন জলপথ আবিষ্কার করেছেন, পৌঁছে গেছেন অনাবিষ্কৃত ভুখণ্ডে। তাদের হাত ধরে বিভিন্ন ফল ও ফসল ছড়িয়েছে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে। এসব যেমন সত্যি, তেমনি এটাও সত্যি যে, তাদের কারণে প্রাণহানিও হয়েছে অনেক। রোগ ছড়িয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় তাদের উপনিবেশ টিকিয়ে রাখতেও সৈনিকরা স্থানীয়দের ওপর করেছে অত্যাচার আর লুট করেছে সম্পদও। বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে দুই দেশ যখন মুখোমুখি, তখন লড়াইটা আর মোটেও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো বনাম লামিন ইয়ামাল নয়।
স্পেনের সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড রাউল গনসালেস জানিয়েছেন, শুধুই ইয়ামালনির্ভর নয় এবারের দল, ‘স্পেনের দলটা খুব ভালো, এই পর্যায়ে এসে গোল হজম না করাটা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মিডফিল্ড খুব চমৎকার; রোদ্রি, পেদ্রি গাভি, দানি ওলমো...ওরা আছে। আক্রমণের তিনজনও দারুণ, ইয়ামাল আর ওয়ারসাবাল আর তার সঙ্গে চমক হিসেবে অ্যালেক্স বেনা। ফেরান তোরেসও আছে। পর্তুগালের বিপক্ষে জেতার জন্য স্পেনের কাছে অনেক রকম কৌশলই আছে।’ স্পেনের আরেক সাবেক ফুটবলার মরিয়েন্তেস মনে করেন, রোনালদোকে একাদশেই নাও দেখা যেতে পারে, ‘ক্রিস্তিয়ানো তার খেলা ছয়টি বিশ্বকাপেই গোল করেছেন এবং তার আকাঙ্ক্ষাও আকাশচুম্বী। তবে তিনি খেলবেন কি না, তা সম্পূর্ণ কোচের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। গত ম্যাচে তাকে তুলে নেওয়ার পর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছে গনসালো রামোস। তাদের দলে রাফায়েল লিয়াও, ব্রুনো ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনহা এবং জোয়াও ফেলিক্সের মতো খেলোয়াড়রাও আছেন। ক্রিস্তিয়ানো দলে থাকুন কিংবা না থাকুন— পর্তুগাল দল হিসেবে ভীষণ শক্তিশালী।’ রাউল মনে করেন, ছোট ছোট ব্যাপারই গড়ে দেবে ব্যবধান, ‘ছোট ছোট বিষয়ই হারজিতের পার্থক্য গড়ে দেবে। যারা ৯০ বা ১২০ মিনিট একাগ্রতা, তাড়না আর জয়ের তীব্র ইচ্ছা নিয়ে খেলবে তারাই জিতবে।’




