এশিয়ান গেমস
পাহাড়ের কোলে ক্রিকেট বনাম বৃষ্টির লড়াই

আইচির নিশিন শহরটা পাহাড় ঘেরা। ছবির মতো পরিপাটি শহরের যে কোনো প্রান্ত থেকে ধরা দেবে দূরের ওয়ারি পর্বতমালা। আর করোগি স্পোর্টস পার্কটা গড়ে উঠেছে ওনতাকে পাহাড়ের পাদদেশে। এ অঞ্চলে দু’দিন ধরেই ঝড়ছে অবিরাম বৃষ্টি। কেবল করোগি নয়, পুরো নাগোয়ার আকাশই কাঁদছে। তারপরও হোটেলে শুয়ে-বসে থাকার জো নেই। দু’দিন বাদেই এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। ১৬ বছর পর সোনালি পদকে চোখ রেখে নাগোয়ায় এসেছেন লিটন, মোস্তাফিজ, রিশাদরা। বড় প্রতিপক্ষের মোকাবেলার আগে তাদের পেরুতে হবে মালয়েশিয়া বাধা। তাই বৃষ্টির মাঝেই কিছু সময় অনুশীলনে মনযোগ দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। যদিও নির্ধারিত সময়ের পুরোটা কাজে লাগানো যায়নি সেই বৃষ্টির কারণেই।
আগের দিন ছিল বিশ্রাম। নাগোয়ার ব্যস্ততম সাকায়েতে টিম হোটেলে জিম করে, একটু ইতিউতি ঢু মেরে কেটেছে ক্রিকেটারেদর সময়। তবে সবার মাঝেই তাড়া ছিল মাঠে গা গরম করার। এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেকটা সময়। দলকে সকালে জানানো হয়, দুপুর দেড়টায় একটা সেশন করতে পারবে বাংলাদেশ। তবে সেটা কোথায় হবে, সেটা অজানাই ছিল।
সময় জানতে টিম হোটেলের ইনফরমেশন ডেস্কে বারবার ধর্ণা দিয়েও অনেকটা সময় অন্ধকারে থাকতে হয় টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবালকে। এদিকে সময় ঘনিয়ে আসছে। সাড়ে ১২টায় আয়োজকরা জানালেন অনুশীলন হবে ক্রিকেট ভেন্যু আইচি প্রফেকচারাল করোগি স্পোর্টস পার্কে। দল নিয়ে বের হবার প্রস্তুতি আগেই ছিল। তাই টিম বাস ধরতে বেশি সময় লাগেনি। তবে করোগি স্পোর্টস পার্কের পৌঁছতেই কিট ব্যাক থেকে বের করতে হলো তোয়ালে। নাগোয়াকে যে সকাল থেকেই ভিজিয়ে দিচ্ছে বৃষ্টি।
প্রকৃতির খেয়ালের ওপর তো জোর খাটে না। তারপরও বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন চেষ্টা করলেন ক্রিকেটারদের গা গরমের সুযোগ করে দেওয়ার। টেনে ব্যাট হাতে নিজেদের একটু ঝালিয়ে নিলেন সাইফ, রাব্বিরা। পরে অনেকটা সময় তাওহীদ হৃদয়কে একা নেট করালেন কোচ। শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমানরা সেন্টার উইকেট দেখে নিলেন ঢাকনা উঠিয়ে। মাঠে অল্প সময় চলল ক্যাচিং ও ফিল্ডিং প্র্যাকটিস।
বৃষ্টির বাধায় পুরোটা সময় অনুশীলন চালানো যায়নি। ফেরার বাস ধরার আগে বাংলাদেশের সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেন কোচ সালাউদ্দিন, যাকে একই সঙ্গে বৃষ্টি এবং কোয়ার্টারের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া ভাবাচ্ছে, ‘মালয়েশিয়া কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সফর করেছে। সেই সফরে তাদের কয়েকজন ভালো ক্রিকেটার ছিলেন না। এখানে নিশ্চয় তারা খেলবেন। তাই আমাদের শতভাগ মনযোগ দিয়েই খেলতে হবে। ছেলেরা ভালো অবস্থায় আছে। এখন খেলাটা হলেই সবচেয়ে বেশি খুশি হব।’
মালয়েশিয়ার ক্রিকেট সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকার কথা বলেছেন সালাউদ্দিন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে অনেক কিছুই আমার জানা। তবে এ ধরনের টুর্নামেন্টে অঘটনের ঘটনা ঘটতেই পারে। এখানে অনেক সময় টস একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। তাই আগেই জিতে যাওয়া উচিত না। খেলেই আমাদের জিততে হবে।’
অর্জন ও প্রাপ্তির বিচারে যে কোনো গেমসে খেলাকে এগিয়ে রাখার কথা বলেছেন সালাউদ্দিন, ‘দেখুন এটা নিয়ে আমরা কথা বলছি। কারণ আমাদের মনে হয় যে এটা আরও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলি, সেটা নিয়ে কেবল ক্রিকেটাররাই খুব ফোকাস থাকে। তবে এখানে কিন্তু পুরা দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে যে আমরা একটা পদক পাবো। আমার মনে হয় ছেলেদের ওই মোটিভেশনটা আছে। এবং আমরাও জানি যে এটার গুরুত্ব কতটুকু।’
মালয়েশিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যেতে মুখিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি বৃষ্টি। বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার আগে এই ম্যাচটা নানা কারণেই ভালো খেলে জিততে চাইছেন সালাউদ্দিন। বৈরি আবহাওয়া দূর হয়ে সে সুযোগটা পাওয়ার আশায় কোচ বলেন, ‘এখানে আপনার প্র্যাকটিস করারও আসলে খুব বেশি সুযোগ নেই। আপনি যদি ম্যাচ খেলতে পারেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কী অবস্থা, না হলে তো পারবেন না। আমি অন্য অপোনেন্টকে কখনো খাটো করে দেখি না। আমার মনে হয় কোয়ার্টার ফাইনালটাও একটা প্রেশার ম্যাচ। কারণ, এটা নক-আউট। এখানে সবসসময় একটা প্রেসার থাকবেই। তাই এ ম্যাচ নিয়ে আমাদের সিরিয়াস থাকতে হবে। পরেরটা পরে চিন্তা করা যাবে।’
একাধিকবার ম্যাচ হওয়ার কথা বলেছেন সালাউদ্দিন। ওনতাকে পাহাড়ের কোলে বৃষ্টি নয়, তিনি ক্রিকেটকে জিততে দেখতে চান।






