‘হেরে শেখার’ টুর্নামেন্টে হামজাদের শেষ ম্যাচ
- ইন্দোনেশিয়াকে ১৯৮৫ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ
- জেতা সেই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেছিলেন কায়সার হামিদ ও আশরাফ উদ্দিন চুন্নু
- সবশেষ ৪ বছর আগে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া। ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ০-০ তে

থমাস ডুলির কথা শুনলে মনে হয় ফিফা আসিয়ান কাপ একটি শিক্ষণীয় টুর্নামেন্ট। এটি বাংলাদেশের জন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা নয় বরং ফুটবল শেখার পাঠশালা। হারবে আর শিখবে! প্রথম দুই ম্যাচে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে জামাল ভূঁইয়ারা বেশ মন দিয়েই শিখেছে। ‘হেরে হেরে শেখার’ এ অভিনব পাঠশালার শেষ ক্লাসে আজ ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে নামছে বাংলাদেশ।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হবে ম্যাচটি। স্বাগতিকদের এ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলির বার্তা, ‘এটি আমাদের জন্য একটি শেখার টুর্নামেন্ট, এর বেশি কিছু নয়। তাই এখান থেকে আমাদের কিছু অর্জন করতে হবে। আমরা যেসব ভুল করি, খেলোয়াড়দের সেগুলো থেকে শিখতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে আরও ভালো করতে হবে। উন্নতি এভাবেই হয়, এটি রাতারাতি আসে না।’ কোনো চাপ নেওয়ার দরকার নেই। ভুলভাল করতে করতেই বাংলাদেশ একদিন ফুটবলের বড় দেশ হয়ে উঠবে!
বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য পুরো সফরটাই হয়ে গেছে ভুলে ভরা ব্যর্থতার মহাকাব্য। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগেই কোচের গলায় ছিল হতাশার সুর, ‘১-০ গোলে হারলেও অন্তত সম্মান রক্ষা হবে!’ এই ধরনের মানসিকতাকে ডুলি ভুল হিসেবে মানতে নারাজ। বাস্তবে তার আত্মসমর্পণমূলক মানসিকতার প্রভাবে মাঠে দেখা গেছে ভেঙে পড়া এক বাংলাদেশ। ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারা ম্যাচে কে খারাপ খেলেনি! কিন্তু অদ্ভুতভাবে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফারহান আলীকে ছেঁটে ফেলেন কোচ সিঙ্গাপুর ম্যাচের একাদশ থেকে। এর পরপরই মাঠের বিতর্ক আছড়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, নানা মুখরোচক প্রচারণা ও গুঞ্জন ডালপালা মেলে ডুলি ও ফারহান আলীর সম্পর্কের টানাপড়েন রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য গৃহদাহে।
তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলেছে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে। শুরু থেকেই হামজা-রাকিবদের শরীরী ভাষা ছিল অন্যরকম, প্রতিপক্ষের বক্সে গিয়ে গোলের সুযোগও তৈরি করেছে। এ ম্যাচটাকেই আদর্শ ধরে থমাস ডুলি এবার কথা বলেছেন অন্যভাবে, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ২৩ জন খেলোয়াড় রয়েছে এবং আমরা জিততে চাই। শুধু জেতা নয়, আমাদের লড়াই করতে হবে এবং সেরা পারফরম্যান্স দিতে হবে। আমরা হারতে পারি, কিন্তু পারফরম্যান্স মাঠে থাকতে হবে। আমরা দেশের জন্য খেলছি এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দায়িত্ব নিয়ে সিঙ্গাপুরের ম্যাচের মতো খেলতে হবে।’ স্বাগতিকদের মাঠে ৭০ হাজার দর্শকের সামনে খেলাও কঠিন। সঙ্গে ১৭ জন ন্যাচারালাইজড ফুটবলার আছে তাদের স্কোয়াডে, সুবাদে এই দল শক্তিতে অনেক এগিয়ে।
এরপরও অনেক দিন পর সিঙ্গাপুর ম্যাচে একাদশে জায়গা পাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ইন্দোনেশিয়ার ম্যাচে ভুল কমিয়ে আনতে চান, ‘আমরা ওদের সেটপিস দেখেছি। তারপর আমরা দুজন স্ট্রাইকারও দেখলাম, ওরা খুব ভালো। তাদের শক্তির জায়গা নিয়ে আলাপ করেছি, দুর্বলতা নিয়েও। আমাদের মাঠে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’ সঙ্গে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তার মত, ‘নিজেদের খেলা নিয়ে আরও ভাবতে হবে আমাদের। কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে, সে নিয়ে ভাবা দরকার।’
অত ভেবে লাভ নেই। এখানে ভুলের মাশুল গোনায় ধরা হবে না। ভুল থেকে শেখার আসর এই আসিয়ান কাপ। কারণ বাংলাদেশের আমেরিকান কোচের চোখ সাফে, ‘এখানে খেলে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হবে এবং ভুল থেকে শিখতে হবে। ম্যাচে খেলোয়াড়রা ভুল করবে এবং আমরা বিপদে পড়ব, কিন্তু আমাদের শিখতে হবে। এখানকার ম্যাচগুলো শেখার জন্য আর দেশে ফিরে আমাদের সাফ টুর্নামেন্ট জিততে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
আসিয়ান কাপে ‘ফুটবল শেখার আসর’ আর সাফ ‘জেতার টুর্নামেন্ট’!




