অবৈধ লেনদেন
নেইমারকে নিয়ে মামলায় ফাঁসছেন সাবেক বার্সা সভাপতি

২০১৭ সালে ব্রাজিল সুপারস্টার নেইমারের দলবদল ইস্যুতে তৈরি হওয়া আর্থিক অনিয়মের মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন ক্লাবটির সাবেক আইনি প্রধান রোমান গোমেজ পন্তি। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউর আমলেই তার ব্যক্তিগত আইনজীবীকে ১.৭ মিলিয়ন ইউরো দেওয়ার সেই আলোচিত সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল তৎকালীন বোর্ড।
বার্সেলোনার বর্তমান সভাপতি হুয়ান লাপোর্তার বোর্ডের কমিশন করা একটি ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বার্তেমেউ তার মেয়াদে ক্লাবের অগোচরে চার মিলিয়ন ইউরো বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী ও কমিশনে খরচ করেছিলেন। তদন্তের কেন্দ্রে থাকা ১.৭ মিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করা হয়েছিল হোসে আনহেল গঞ্জালেস ফ্রাঙ্কোকে, যিনি নেইমার মামলার সময় বার্তেমেউর ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ২০১৬ সালে ক্লাব প্রসিকিউটর অফিস এবং স্টেট অ্যাটর্নি অফিসের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, যার মাধ্যমে নেইমারের চুক্তিতে দুটি ট্যাক্স অপরাধ স্বীকার করে ৫.৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা দিতে রাজি হয়েছিল বার্সেলোনা।
প্রসিকিউটরদের দাবি, গঞ্জালেস ফ্রাঙ্কোকে দেওয়া ওই অর্থ ক্লাবের বোর্ডের পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই ছাড় করা হয়েছিল এবং বোর্ডকে বিষয়টি পরবর্তীতে জানানো হয়েছিল। এছাড়া বার্সেলোনার মূল আইনি লড়াই পরিচালনা করেছিলেন ক্রিস্টোবাল মার্তেল। ফলে এই সমঝোতায় ফ্রাঙ্কো ক্লাবের হয়ে কোনো প্রতিনিধিত্ব করেননি। ব্যক্তিগতভাবে বার্তেমেউকে রক্ষা করা এবং ক্লাবের স্বার্থ দেখার ক্ষেত্রে এখানে স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আদালতে দেওয়া বক্তব্যে রোমান গোমেজ পন্তি নিজেকে এই আর্থিক লেনদেনে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন। তিনি জানান, গঞ্জালেস ফ্রাঙ্কোর সম্মানী নির্ধারণ বা অর্থ পরিশোধের বিষয়টি তার এখতিয়ারের মধ্যে ছিল না, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে বার্সেলোনা বোর্ডের দায়িত্ব ছিল। নিজের ভূমিকা কেবল এই বিষয়ে মতামত দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে এই লেনদেনকে অযৌক্তিক মনে করেন না পন্তি ও বার্তেমেউ। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, এই আইনজীবীর ফি ছিল ওই চুক্তির মাধ্যমে বার্সেলোনার সাশ্রয় হওয়া অর্থের মাত্র ১০ শতাংশ, যা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। এদিকে মামলার শুনানিতে একটি বীমা কোম্পানির প্রতিনিধিও সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বার্সেলোনার পরিচালকদের আইনি প্রতিরক্ষার খরচের বীমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ফ্রাঙ্কোকে ২,০০,০০০ ইউরো পরিশোধ করলেও পরবর্তী প্রায় ১ মিলিয়ন ইউরো অতিরিক্ত ফিসের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, বীমা কোম্পানি সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই বার্সেলোনার তহবিল থেকে ঘুরপথে সেই বিল পরিশোধ করা হয়।





