ঢাকা সাফ
বিশ্বনাথের পাশেই থাকছেন সতীর্থরা

ছবি: আগামীর সময়
কোচ থমাস ডুলির আজব সিদ্ধান্তে ডিফেন্ডার থেকে স্ট্রাইকার হতে হয়েছে বিশ্বনাথ ঘোষকে। মাত্র তিন-চারদিনের প্রস্তুতি নিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে তাকে। চেষ্টার কমতি ছিল না। তবে অভিজ্ঞতা না থাকায় গোলের সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে পারেননি। বিশ্বনাথকে ডুলির স্ট্রাইকার বানিয়ে দেওয়া নিয়ে হচ্ছে অনেক সমালোচনা। বেশিরভাগের তীর কোচের দিকেই। তবে নেতিবাচক কথা শুনতে হচ্ছে বিশ্বনাথকেও। তবে সতীর্থদের ঠিকই পাশে পাচ্ছেন তিনি। শনিবার যেমন শেখ মোরসালিন প্রশংসা করলেন বিশ্বনাথের।
জ্বর ধকল থেকে পুরোপুরি সেড়ে ওঠেননি বলে ভুটানের বিপক্ষে ২৩জনের স্কোয়াডে ছিলেন না মোরসালিন। তবে এখন পুরোপুরি সেড়ে উঠে দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলন করছেন। জানিয়েছেন ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামতে শতভাগ প্রস্তুত তিনি। ভুটানের বিপক্ষে সুস্থ থাকলে হয়ত ডুলিকে বিশ্বনাথের ওপর নির্ভর করতে হতো না, মোরসালিনকে হয়ত দেখা যেতে নাম্বার নাইন পজিশনে। দলে স্বীকৃত একাধিক ফরোয়ার্ড থাকা সত্ত্বেও একজন ডিফেন্ডারকে স্ট্রাইকের বানিয়ে দেওয়ার কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে মোরসালিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের তো নাম্বার নাইনের সমস্যা অনেকদিন ধরে, এটা সবাই জানে। আমরা যখন যেখানেই সুযোগ পাই... যেমন আমি মিডফিল্ডের প্লেয়ার হয়েও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে অনেক সময় খেলেছি। কোচ যেখানেই সুযোগ দিবে আমাকে সেখানে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশ্বনাথ দাদাও চেষ্টা করেছে। ডিফেন্ডার হয়েও আক্রমণভাগে ভালো খেলেছে বা চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয়, যারা আছে সবারই এরকম মানসিকতা থাকা উচিত যে যে যেখানেই সুযোগ পাক, ভালো করতে হবে।’
শ্রীলঙ্কা মাঠে নামছে আগামীকাল রবিবার। ভুটানকে সে ম্যাচে হারিয়ে দিলে বা ম্যাচটা ড্র হলে বাংলাদেশ চলে যাবে সেমিফাইনালে। তখন ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা হবে গ্রুপ সেরা নির্ধারণী। মোরসালিনের চাওয়া ম্যাচটা জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানে। তবে কাজটা সহজ হবে না, সেটা বোঝেন ২০২৩ সাফে অসাধারণ ফুটবল খেলা মোরসালিন, ‘আমরা সবাই একমত যে শ্রীলঙ্কার দল খুবই ভালো। আমরা তাদের হালকাভাবে নিচ্ছি না। যেহেতু আমরা প্রথম জিতেছি, আমাদের সবার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। আমরা জেতার জন্যই আমরা খেলবো ইনশাল্লাহ।’
পুরো দলের মতো মোরসালিনও অপেক্ষায় আছেন তাদের সেরা তারকা হামজা চৌধুরীর আসার। আজ রাতে শেফিল্ড ইউনাইটেডের সঙ্গে ম্যাচ খেলে পরের দিন বিমানে চেপে বসবেন হামজা। সোমবার সকালে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মোরসালিন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই খুব আশাবাদী। হামজা ভাই, ফারহান (আলী ওয়াহিদ) আসলে আমাদের দলের স্পিরিট আরো বাড়বে।’
বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের আলাদা দৃষ্টিতে দেখতে চান না মোরসালিন। তিনি মনে করেন, একটি পরিবার হয়ে খেলছে বাংলাদেশ। তে তিনি এটা মানছেন না যে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ হতে যাচ্ছে বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের সঙ্গে বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের লড়াই, ‘না সেরকম কিছু আমার মনেই হয় না। আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের বাংলাদেশ দলে যারা আছে, সবাই দেশের জন্যই খেলে। আমরা সবাই মিলে দেশকে বারবার জয়ের আনন্দে ভাসাতে চাই।’




