স্পেন-আর্জেন্টিনার ছবিসহ ফিফার ২৫ পৃষ্ঠার নথিতে যা ছিল

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা থেকে ক্ষোভের মুখে সরে এসেছে ফিফা। এর পর থেকেই চেয়ার ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রশ্ন হচ্ছে, ২১১টি সদস্য দেশের সবাইকে ২ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ইনফান্তিনোর স্বপ্নের প্রজেক্ট মুখ থুবড়ে পড়ল কেন?
ফিফা ২৫ পৃষ্ঠার সেই প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে প্রতিটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে। সেখানে স্পেনের বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ছবি ব্যবহার করে যুক্তি তুলে ধরা হয় বিতর্কিত পরিকল্পনাটির পক্ষে। সেখানে মার্কিন ফুটবলের মতো আয় করার একটি বড় চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।
এতে ১ হাজার ডলারের বেশি দামের টিকিট, টিকিটের ডায়নামিক প্রাইসিং এবং বিশ্বকাপের সম্প্রচার পে-ওয়ালের (টাকা দিয়ে দেখার মাধ্যম) অধীনে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত ছিল। ফিফার মূল যুক্তি, ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হলেও সেই তুলনায় আয় করতে পারছে না তারা। অন্যান্য লিগের তুলনায় ফিফাকে পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া হয়নি আর এজন্য বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ফিফা-উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, ইউএস বেসবল এবং মার্কিন এনএফএল ফুটবলের বার্ষিক আয় ও সমর্থকপ্রতি আয়ের একটি তুলনামূলক চার্ট দেখিয়ে এই যুক্তি দাঁড় করায়। তবে এই হিসাবের মাপকাঠিতেই ছিল ভুল। কেননা বিশ্বকাপ কোনো বার্ষিক প্রতিযোগিতা নয়— এটি প্রতি চার বছরে একবার হয়। তাই যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতি ম্যাচের আয়ের হিসাব করা হতো, তাহলে প্রিমিয়ার লিগের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি আয় দেখা যেত ফিফার।
এনএফএলের আয়ের প্রায় অর্ধেক টাকা ফুটবলারদের বেতন হিসেবে দেওয়া হয়, এটা উল্লেখ করেনি ফিফা। অথচ ফিফা আর্লিং হলান্ড, লিওনেল মেসি বা ভোজিনহার মতো খেলোয়াড়দের বেতন দেয় না। নথি অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে আংশিক বেসরকারি এই নতুন প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের টিকিট, সম্প্রচার, লাইসেন্সিং এবং স্পন্সরশিপের দায়িত্বে থাকত।
এর অর্থ, পুরো বিশ্ব ফুটবলের কাছে দায়বদ্ধ একটি অলাভজনক সংস্থার হাত থেকে বিশ্বকাপের আয়োজনের ক্ষমতা চলে যেত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকার সমান ভাগ পেত সবাই। তাতে ক্যারিবীয় অঞ্চলের মন্টসেরাতকে যে টাকা পেত, সেটা তাদের সমগ্র অর্থনীতির প্রায় অর্ধেকের সমান বা জনপ্রতি ১০ হাজার ডলার। আবার একই পরিমাণ অর্থ পেত বাংলাদেশের মতো একটি বিশাল ও বিপুল জনসংখ্যার দেশও।
প্রশ্ন হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার জন্য যেকোনো মূল্যে আয় বাড়ানোর মিশন কি এফএফইর ছিল? নথিটিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। এটি ছিল একটি অস্পষ্ট কাঠামো, যা ২০২৬ সালের চড়া টিকিটের মূল্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে টিকিয়ে রাখা, বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে সম্প্রচার খরচ বাড়িয়ে দেওয়া এবং অনিবার্যভাবে আরও বেশি ম্যাচ ও ঘন ঘন টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এই অবাস্তব প্রস্তাবটি তাই মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোপুরি ভেঙে যায়।




