বিতর্কের জন্ম দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

সংগৃহীত ছবি
তাকে ডাকা হয় ‘ইরানিয়ান মেসি’ নামে। দলের বড় তারকা সর্দার আজমুন খেলেছেন আগের দুই বিশ্বকাপেও। অভিজ্ঞ এই ফুটবলারকে বিশ্বকাপে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েই আলোচনায় এলো ইরান। আজমুনকে ছাড়া ৩০ জনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন ইরান কোচ আমির গালেনোই।
জাতীয় দলের হয়ে আজমুন খেলেছেন ৯১ ম্যাচ, করেছেন ৫৭ গোল। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, এশিয়ান কাপ ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে বড় অবদান রেখেছেন তিনি। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে তাকে বাদ দেওয়াটাও যেন বিস্ময়কর ঘটনা।
ইউরোপের বেয়ার লেভারকুসেন, জেনিত, রোমার মতো ক্লাবে খেলা আজমুন এখন খেলছেন দুবাইয়ের ক্লাব শাহাব আল আহলিতে।
আর দুবাইতে খেলাই যেন কাল হলো আজমুনের। স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার কোনো কারণ ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানায়নি। তবে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর পেছনে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ইস্যু দায়ী।
গত মার্চে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মক্তুমের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন আজমুন। আর এতেই বাঁধে বিপত্তি। ইরান ও আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান সংঘাতের সময় এমন ছবি দেওয়া ভালোভাবে নেয়নি ইরান।
কিছু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করে, ইরান কর্তৃপক্ষ আজমুনের এই ছবি পোস্টের ঘটনায় অসন্তুষ্ট হয়েছিল। এর আগে ২০২২ সালের ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও আজমুন প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। সেই সময় জাতীয় দলে থেকেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন।
শেষ পর্যন্ত ওই ছবি পোস্টের খেসারত দিতে হলো আজমুনকে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলা হচ্ছে না তার। ইরানের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড মেহেদী তারেমি, দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনিই। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার আছেন দলে।
আগামী ১৮ মে তুরস্কে যাবে ইরান ফুটবল দল। সেখানে বিশ্বকাপ ট্রেনিং ক্যাম্প করবে তারা। তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদন করবে দলের সবাই। ভিসা পেলেই বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দেবেন তারা।
তুরস্কে ক্যাম্প শেষে ইরান দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে খেলা নিশ্চিত করলেও অন্য ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ইরানের ৩০ জনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক: আলিরেজা বেইরানভান্দ, সৈয়দ হোসেন হোসেইনি, মোহাম্মদ খালিফেহ, পায়াম নিয়াজমান্দ।
ডিফেন্ডার: দানিয়াল এইরি, এহসান হাজসাফি, সালেহ হার্দানি, হোসেন কানানি, শোজা খলিলজাদেহ, মিলাদ মোহাম্মদী, আলী নেমাতি, ওমিদ নূরাফকান, রামিন রেজাইয়ান।
মিডফিল্ডার: রুজবেহ চেশমি, সাঈদ এজাতোলাহী, মেহেদী ঘায়েদী, সামান ঘোদোস, মোহাম্মদ ঘোরবানি, আলিরেজা জাহানবাখশ, মোহাম্মদ মোহেবী, আমির মোহাম্মদ রাজাগিনিয়া, মেহেদী তোরাবি, আরিয়া ইউসেফি।
ফরোয়ার্ড: আলী আলিপুর, ডেনিস দারগাহি, হাদি হাবিবিনেজাদ, আমির হোসেন হোসেইনজাদেহ, আমিরহোসেন মাহমুদী, কাসরা তাহেরি, মেহেদী তারেমি।




